প্রশ্নের ভিতরে টেবিল, অংক আর সূত্র
প্রাথমিকের অংকের প্রশ্ন বানাতে গিয়ে আটকে যান অনেকেই। ১২৫ এর নিচে ৩৫ বসিয়ে, এককের ঘর এককের ঘরের নিচে রেখে, বাম পাশে যোগ চিহ্ন দিয়ে নিচে দাগ টানা — এইটুকু অ্যাপে করা যেত না। কেউ কেউ হাতে লিখে ছবি তুলে বসাতেন, কেউ Word এ বানিয়ে প্রিন্ট করতেন। এখন আর লাগে না।
প্রশ্নের ভিতরে Word এর মতো সারি-কলামের ঘর বসান, ১২৫ এর নিচে ৩৫ লিখে যোগের অংক সাজান, আর ভগ্নাংশ বা বীজগণিতের সূত্র বসান — সব প্রশ্নপত্রের ভিতরেই।
-
যে প্রশ্নের ভিতরে টেবিল বা অংক বসাবেন, সেই প্রশ্নের নিচে "লেখা সাজান" চাপুন। একটা বড় পাতা খুলবে — উপরে প্রশ্নের লেখা, আর একদম নিচে সবুজ কিছু বোতাম।
প্রশ্নের তালিকায় "টেবিল বসান" খুঁজে পাবেন না — ওটা শুধু এই "লেখা সাজান" পাতার ভিতরে আছে। আর এটা প্রশ্নের লেখার নিচে বসে, লেখার ভিতরে না — প্রশ্নটা আগে লিখে নিন, তারপর নিচে টেবিল বা অংক যোগ করুন।
-
একদম নিচে পাঁচটা বোতাম পাবেন — "টেবিল বসান", "অংক বসান", "সূত্র বসান", "উত্তরের জায়গা বসান", "তালিকা/কোড বসান"। যেটা লাগবে সেটায় চাপ দিন। একটা প্রশ্নে একাধিক জিনিস বসানো যায় — যেমন একটা টেবিল আর তার নিচে একটা অংক।
বোতামের সারিটা ছোট ফোনে পুরাটা দেখা যায় না — শেষেরটা পেতে সারিটা আঙুল দিয়ে বাম দিকে টেনে নিন।
-
"টেবিল বসান" চাপলে শুরুতে ২ সারি × ২ কলামের একটা ঘর আসে। প্রতিটা ঘরে আলাদা করে লেখা যায় — শুধু ঘরটায় চাপ দিয়ে লিখুন।
-
সারি বা কলাম বাড়ানো-কমানো যায় ছকের গা ঘেঁষে থাকা ছোট + আর − বোতাম দিয়ে। ছকের ডান পাশের + − কলাম বাড়ায়-কমায়, আর ছকের নিচের + − সারি বাড়ায়-কমায়। আলাদা করে কিছু খুঁজতে হয় না — যেখানে জিনিসটা বসবে, বোতামটাও ঠিক সেখানেই।
-
ঘরের দাগ, কলামের চওড়া, লেখা কোন দিকে বসবে, আরবি লেখা — এগুলা রোজ লাগে না, তাই লুকানো থাকে। দরকার হলে ছকের উপরে ডান দিকের "সাজান" চাপুন, সব বেরিয়ে আসবে। "কলামের চওড়া" তে − আর + চেপে কলাম চওড়া-সরু করা যায়, যেমন ৬০% আর ৪০% — বাম পাশে প্রশ্ন, ডান পাশে ছোট উত্তরের ঘর।
সব কলাম মিলে সবসময় ১০০% থাকে। একটা বাড়ালে অন্যটা নিজে নিজেই কমে যাবে, তাই কাগজের বাইরে চলে যাওয়ার ভয় নাই।
-
"অংক বসান" চাপলে যোগ-বিয়োগের অংকের ঘর আসে। "চিহ্ন" এর পাশে + − × ÷ থেকে যেটা লাগবে বেছে নিন, তারপর "সংখ্যা লিখুন" ঘরগুলোতে সংখ্যা বসান — উপরে ১২৫, নিচে ৩৫।
-
ছাপার সময় সংখ্যাগুলো ডান দিক ঘেঁষে বসে, তাই এককের ঘর এককের ঘরের নিচে আর দশকের ঘর দশকের ঘরের নিচে পড়ে। চিহ্নটা বাম পাশে বসে, আর শেষ সংখ্যার নিচে আড়াআড়ি দাগ নিজে নিজেই আসে।
দাগটা হাতে দেওয়া লাগে না, আর লেখার মাপ বদলালেও দাগ সংখ্যার সাথেই থাকে — আলাদা হয়ে যায় না।
-
দুইয়ের বেশি সংখ্যা লাগলে "সংখ্যা যোগ করুন" চাপুন। যত লাইন দরকার তত বসানো যায়।
-
"সূত্র বসান" চাপলে চারটা বোতাম আসে — "ভগ্নাংশ", "বর্গমূল", "ঘাত (উপরে)" আর "সাবস্ক্রিপ্ট (নিচে)"। প্রতিটা অংশ আলাদা ঘরে বসে, তাই ভগ্নাংশে "লব" আর "হর" আলাদা করে লিখবেন। নিচে "চিহ্ন" সারিতে √ π ∑ ∫ ≥ ≤ ≠ × ÷ ± ° ∞ → এক চাপে বসানো যায়।
-
যেকোনো ঘরের নিচে "লেখা সাজান" সারিতে বাম / মাঝে / ডান বেছে নিয়ে ওই ঘরটা পাতার কোন দিকে বসবে ঠিক করা যায়। আরবি বা উর্দুর জন্য "ডান-থেকে-বাম লেখা" চালু করুন — শুধু ওই ঘরটাই ডান দিক থেকে শুরু হবে, বাকি প্রশ্ন বাংলাই থাকবে।
-
ভুল বসে গেলে ওই ঘরের ডান পাশে "সরান" চাপলে চলে যাবে। একাধিক ঘর থাকলে "উপরে তুলুন" দিয়ে ক্রম বদলানো যায়।
-
কাজ শেষে উপরে ডান দিকে "বসান" চাপুন। তারপর নিচে "সংরক্ষণ করুন" চাপতে ভুলবেন না — "বসান" শুধু প্রশ্নে বসায়, সংরক্ষণ করে না।
না সংরক্ষণ করে বের হতে গেলে অ্যাপ জিজ্ঞেস করবে "সংরক্ষণ না করে বের হবেন? লেখাগুলো থাকবে না।" — ওখানে "বাদ" চাপলে টেবিল বা অংক সব মুছে যাবে।
-
প্রশ্নপত্রের নিচের দিকে "কাগজ ও লেখার ধরন" অংশে কাগজের আকার বেছে নিতে পারবেন — A4, Letter বা Legal। "দুই কলামে ছাপান" চালু করলে প্রশ্নগুলো এক পাতায় পাশাপাশি দুই কলামে বসবে, কাগজ বাঁচে।
-
একই অংশে "সংখ্যার ধরন (প্রশ্ন নম্বর)" আছে — প্রশ্নের নম্বর বাংলা (০১২), আরবি (٠١٢) নাকি ইংরেজি (012) সংখ্যায় ছাপা হবে সেটা ঠিক করা যায়। মাদরাসার আরবি প্রশ্নপত্রের জন্য "পুরো প্রশ্নপত্র ডান-থেকে-বাম" চালু করে দিন।
সাধারণ প্রশ্ন
টেবিলের ঘরে লেখা মোটা বা বাঁকা করা যাবে?
ঘরের ভিতরের লেখা সাধারণ লেখাই থাকে। মোটা-বাঁকা লাগলে সেটা প্রশ্নের মূল লেখায় করুন — টেবিল বানানো হয়েছে সারি-কলাম সাজানোর জন্য, সাজসজ্জার জন্য না।
একটা প্রশ্নে কয়টা টেবিল বা অংক বসানো যায়?
একটা প্রশ্নে ১২টা পর্যন্ত ঘর বসানো যায়, আর টেবিলে ৩০ সারি ও ১০ কলাম পর্যন্ত। এর বেশি লাগলে প্রশ্নটা ভেঙে দুইটা প্রশ্ন করে নেওয়াই ভালো — এক প্রশ্নে এত কিছু থাকলে ছাত্রও পড়তে কষ্ট পায়।
টেবিলটা পাতার মাঝখানে ভেঙে দুই পাতায় চলে যাবে না তো?
না। একটা প্রশ্ন আর তার ভিতরের সব ঘর সবসময় একসাথে এক পাতায় থাকে। জায়গা না হলে পুরা প্রশ্নটাই পরের পাতায় চলে যায় — অর্ধেক টেবিল কখনো ছাপা হয় না।
মিলকরণ (match the column) প্রশ্ন বানাব কীভাবে?
একটা টেবিল বসান, ২ কলাম রাখুন, তারপর "সাজান" চেপে "ঘরের দাগ" বন্ধ করে দিন। বাম কলামে এক দিকের কথাগুলো, ডান কলামে আরেক দিকের। সারি যত লাগে ছকের নিচের + চেপে বাড়িয়ে নিন।
ভাগের অংক (÷) কি এই ঘরে করা যায়?
চিহ্নে ÷ বেছে নিলে ভাগের অংক উপরে-নিচে সাজিয়ে লেখা যায়। তবে বাংলাদেশের বইয়ে ভাগ যেভাবে লম্বা দাগ দিয়ে লেখা হয়, ঠিক সেই চেহারাটা এখনো আসে না — ওটার জন্য আপাতত ছবি লাগানোই ভালো।
AI-কে জিজ্ঞেস করুন
এই পাতাটা নিয়ে AI অ্যাপকে সহজ বাংলায় বুঝিয়ে দিতে বলুন।
কপি হয়েছে — এখন পেস্ট করুন
গুগল প্লে থেকে ফ্রি ডাউনলোড করুন
আরও টিউটোরিয়াল
- অ্যাপে ঢুকবেন কীভাবে ফোন নম্বর দিয়ে প্রথমবার অ্যাপে ঢোকা। ইমেইল বা পাসওয়ার্ড কিছু লাগবে না।
- এক আইডিতে ঢোকার আরেকটা রাস্তা যোগ করুন ফোন নম্বর দিয়ে খোলা আইডিতে জিমেইল যোগ করুন। আইডি একটাই থাকে, ভিতরের কিছুই বদলায় না।
- নিজের হাজিরা দেবেন কীভাবে শিক্ষক হিসেবে আপনি নিজেও প্রতিদিন হাজিরা দিতে পারেন — এক চাপেই হয়ে যায়।
- আমার বেতন দেখুন ও "বুঝে পেয়েছি" স্বাক্ষর করুন প্রতিষ্ঠান বেতন রেকর্ড করলে অ্যাপে খবর পাবেন। রশিদটা দেখে "বেতন বুঝে পেয়েছি" চেপে নিজের ডিজিটাল স্বাক্ষর রেখে দিন — দুই পক্ষের কাছেই প্রমাণ থাকবে।
- ক্লাস খুলবেন কীভাবে হাজিরা নেওয়ার আগে একবার ক্লাস খুলে নিতে হয়। একবারের কাজ।
- রশিদ-ফলাফলের লেখা সুন্দর করুন — ফন্ট আর আকার প্রিন্ট বা শেয়ার করা কাগজের লেখা দেখতে খারাপ লাগছে? এক জায়গায় ফন্ট বদলে দিলে রশিদ, ফলাফলের স্লিপ, প্রত্যয়ন পত্র — সব একসাথে বদলে যাবে।
- ছাত্র-ছাত্রী যোগ করবেন কীভাবে ক্লাসে ছাত্রদের নাম আর রোল একবার তুলে রাখুন। এরপর প্রতিদিন শুধু টিক দিলেই হবে।
- একবারে সবার নাম তুলবেন কীভাবে ৪০ জনের নাম একটা একটা করে লেখার দরকার নেই। তালিকা লিখে বা পেস্ট করে একবারে সবাইকে যোগ করুন — কম্পিউটার লাগবে না।