শিক্ষক হাজিরার তালিকা দেখবেন কীভাবে

হালনাগাদ ৩১ আগস্ট ২০২৬

কোন শিক্ষক আজ এসেছেন, কে আসেননি — পুরো প্রতিষ্ঠানের হিসাব এক জায়গায়। ট্যাবটা ফাঁকা দেখালে কেন ফাঁকা, সেটাও এখানে বলা আছে।

  1. অ্যাপের উপরের ট্যাবগুলো ডানে টেনে "শিক্ষক হাজিরা" ট্যাবে চাপ দিন। "শিক্ষক হাজিরার তালিকা" খুলবে।

    অ্যাপের উপরের ট্যাবগুলো ডানে টেনে "শিক্ষক হাজিরা" ট্যাবে চাপ দিন। "শিক্ষক হাজিরার তালিকা" খুলবে।

    ট্যাবে চেপে যদি পর্দা একদম ফাঁকা আসে, বা লেখা আসে "শিক্ষক হাজিরা প্রতিষ্ঠানের জন্য" — তাহলে অ্যাপে কোনো সমস্যা হয়নি। আপনি এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত নন। নিচের প্রশ্নোত্তর দেখুন।

  2. উপরে তারিখ দেখাবে — আজকের দিন। বাঁয়ে-ডানে তীর চেপে আগের বা পরের দিন দেখতে পারবেন, অথবা তারিখের উপর চেপে সরাসরি যেকোনো দিন বেছে নিতে পারবেন।

    উপরে তারিখ দেখাবে — আজকের দিন। বাঁয়ে-ডানে তীর চেপে আগের বা পরের দিন দেখতে পারবেন, অথবা তারিখের উপর চেপে সরাসরি যেকোনো দিন বেছে নিতে পারবেন।
  3. নিচে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নাম আসবে — কে কখন এসেছেন, কে এখনো হাজিরা দেননি।

    নিচে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নাম আসবে — কে কখন এসেছেন, কে এখনো হাজিরা দেননি।

    "এই প্রতিষ্ঠানে এখনো কোনো শিক্ষক নেই" লেখা থাকলে প্রতিষ্ঠান ঠিকই আছে, শুধু শিক্ষক যোগ করা বাকি। আগে শিক্ষক যোগ করুন, তারপরই এখানে নাম আসবে।

  4. কারো নামে চাপ দিলে তার আজকের বিস্তারিত খুলবে। আপনি এডমিন বা প্রধান শিক্ষক হলে সময় ঠিক করে দিতে পারবেন।

    কারো নামে চাপ দিলে তার আজকের বিস্তারিত খুলবে। আপনি এডমিন বা প্রধান শিক্ষক হলে সময় ঠিক করে দিতে পারবেন।
  5. ওই বিস্তারিত পর্দাতেই আসা ও যাওয়ার নিচে দেখবেন শিক্ষক কোথা থেকে হাজিরা দিয়েছিলেন — জায়গার নাম, প্রতিষ্ঠান থেকে কত দূরে, আর একটা ছোট ম্যাপ। ম্যাপে লাল গোল বিন্দু শিক্ষক যেখানে ছিলেন, আর সবুজ চারকোনা আপনার প্রতিষ্ঠান। দুইটা পাশাপাশি দেখেই মিলিয়ে নিতে পারবেন।

    লাল বিন্দুর চারপাশের হালকা গোল দাগটি খেয়াল করুন। ওটা ফোন কতটা নিশ্চিত ছিল তা দেখায় — শিক্ষক ওই দাগের ভিতরে কোথাও ছিলেন, ঠিক বিন্দুটির উপরে নন। গ্রামে বা ঘরের ভিতরে জিপিএস প্রায়ই ১০০-২০০ মিটার এদিক-ওদিক হয়, তাই দাগটা বড় হলে দূরত্বের ছোট হিসাব ধরে কাউকে দোষ দেবেন না।

  6. "শিক্ষকের হাজিরার রিপোর্ট ও প্রিন্ট" চাপলে যেকোনো তারিখ থেকে তারিখ পর্যন্ত হিসাব বের করে প্রিন্ট করা যায়। শুরু আর শেষ তারিখ বসিয়ে "রিপোর্ট দেখুন" চাপুন, তারপর "প্রিন্ট করুন"।

    "শিক্ষকের হাজিরার রিপোর্ট ও প্রিন্ট" চাপলে যেকোনো তারিখ থেকে তারিখ পর্যন্ত হিসাব বের করে প্রিন্ট করা যায়। শুরু আর শেষ তারিখ বসিয়ে "রিপোর্ট দেখুন" চাপুন, তারপর "প্রিন্ট করুন"।
  7. তারিখ দুইটার নিচে "তালিকা সাজান" বলে দুইটা বোতাম আছে — "পদবী অনুযায়ী" আর "আইডি নম্বর অনুযায়ী"। কোনটা চালু আছে সেটা বোঝা যায় টিক চিহ্ন দিয়ে। কিছু না চাপলে "পদবী অনুযায়ী"-ই থাকে: আগে প্রধান শিক্ষক, তারপর সহকারী প্রধান শিক্ষক, তারপর বাকি শিক্ষকরা, শেষে অফিসের লোকজন।

    "আইডি নম্বর অনুযায়ী" চাপলে তালিকা একদম নম্বরের ক্রমে সাজে — ১০০১, ১০০২, ১০০৩ — পদবী যাই হোক। এই ক্রমে নামের আগে নম্বরটাও ছাপা হয়, স্ক্রিনেও আর কাগজেও, যাতে ক্রমটা আপনি নিজে মিলিয়ে দেখতে পারেন। নম্বরটা কোথা থেকে আসে সেটা জেনে রাখা ভালো: মেশিনের নম্বর আপনি নিজে বসাতে পারেন, কিন্তু "শিক্ষকদের নম্বর ঠিক করুন" পাতাটা একবার খুললে যাদের নম্বর নাই অ্যাপ তাদের নিজে থেকেই একটা নম্বর দিয়ে দেয়। তাই কোনো নাম অন্য জায়গায় বসে থাকলে ধরে নেবেন না যে সাজানো ভুল — আগে ওই পাতায় গিয়ে তার নম্বরটা দেখুন, দরকার হলে বদলে দিন। যাঁদের সত্যিই কোনো নম্বর নাই তাঁরা তালিকার একদম শেষে যাবেন, কিন্তু বাদ পড়বেন না — কেউ রিপোর্ট থেকে হারিয়ে যাবে না। আর যে ক্রমটা আপনি বেছে নেবেন, প্রিন্ট করা কাগজেও ঠিক সেই ক্রমই আসবে।

  8. রিপোর্টে প্রতি শিক্ষকের নামের পাশে আসবে — উপস্থিতি, অনুপস্থিত, ছুটি, উপস্থিতির হার, আর মোট কত ঘণ্টা ছিলেন। উপরে লেখা থাকবে "মোট কর্মদিবস কত দিন", আর নিচে রিপোর্ট তৈরির তারিখ।

    অনুপস্থিত কলামটা সবার রিপোর্টে আসে না — আগে প্রতিষ্ঠানের ছুটির দিন বসাতে হয়। কারণটা সোজা: কোন দিন প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল অ্যাপ না জানলে শুক্রবার বা ঈদের দিনও "অনুপস্থিত" হয়ে ছাপা হয়ে যাবে, আর ঐ কাগজের উপর শিক্ষকের বেতন নির্ভর করে। ছুটির দিন বসানো না থাকলে রিপোর্টে অনুপস্থিতের বদলে "লেখা হয়নি" লেখা থাকবে — সেটা অভিযোগ নয়, শুধু বলছে ঐ দিনের কোনো তথ্য নেই।

  9. অনুপস্থিতির হিসাব চালু করতে সেটিংস → "ছুটি ও বন্ধের দিন" এ যান। ঐ পাতার উপরে "সাপ্তাহিক ছুটি" তে আপনার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন (যেমন শুক্রবার) চাপুন, আর ঈদ বা পরীক্ষার বিরতির মতো দিনগুলো "ছুটি যোগ করুন" দিয়ে বসান। একবার বসালেই রিপোর্টে অনুপস্থিত কলাম চলে আসবে।

    খেয়াল রাখবেন — সেটিংসের নিচের দিকে "সাপ্তাহিক ছুটির দিন" নামে আরেকটা দিনের সারি আছে। ওটা দেখতে একই রকম, কিন্তু ওটা শুধু আপনার নিজের ফোনের জন্য — ওখানে শুক্রবার চাপলে রিপোর্টে অনুপস্থিত আসবে না। পুরো প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করে শুধু "ছুটি ও বন্ধের দিন" পাতাটা, আর সেটা প্রধান শিক্ষক বা এডমিনই বসাতে পারেন।

  10. কোনো শিক্ষক কোনোদিন না আসলে তার নামে চাপ দিন। আগমন-প্রস্থান দুইটাই খালি থাকলে নিচে দুইটা ঘর দেখবেন — "অনুপস্থিত লিখে দিন" আর "ছুটি লিখে দিন"। যেটা দরকার সেটাতে টিক দিন, "কারণ" ঘরে দুই কথায় লিখুন কী হয়েছিল, তারপর "সংশোধন সংরক্ষণ" চাপুন। রিপোর্টে ঐ দিনটা তখন অনুপস্থিত হিসাবে উঠবে।

    কারণ না লিখলে সেভ হবে না, আর এটা ইচ্ছা করেই — শিক্ষক নিজে ঐ কারণটা দেখতে পাবেন, আর কে কখন লিখেছে সেটাও "পরিবর্তনের ইতিহাস" এ থেকে যাবে। বেতন-পদোন্নতির কাগজে কারো নামের পাশে অনুপস্থিত বসছে, তাই কারণটা লেখা থাকা দরকার।

  11. ঘরদুটো না দেখলে বুঝবেন ঐ দিনে আগমন বা প্রস্থানের সময় বসানো আছে। সময় থাকলে অ্যাপ ধরে নেয় তিনি এসেছিলেন — তখন আর অনুপস্থিত লেখা যায় না। আগে সময়টা মুছুন, তারপর ঘরদুটো আসবে।

সাধারণ প্রশ্ন

তালিকায় শুধু আমার নিজের হাজিরা দেখাচ্ছে, অন্যদের নাম নাই — কেন?

আপনার প্রতিষ্ঠানের এডমিন বা প্রধান শিক্ষক আপনার জন্য "অন্য শিক্ষকদের হাজিরা দেখা" অনুমতিটা বন্ধ রেখেছেন। অ্যাপে কোনো সমস্যা হয়নি, আর কিছু হারায়ও নাই। নিজের হাজিরা আপনি আগের মতোই দিতে পারবেন আর ওই পাতায় নিজেরটা দেখতেও পারবেন — শুধু অন্যদের সারিগুলো আসবে না। তারিখ বদলে আগের দিনগুলোতেও নিজের হাজিরা দেখতে পারবেন। সবার তালিকা লাগলে প্রতিষ্ঠানের এডমিন বা প্রধান শিক্ষককে বলুন; তিনি প্রতিষ্ঠান পাতায় আপনার নামের পাশে "অনুমতি" থেকে এটি চালু করে দিতে পারেন।

আগে এখানে "এই তালিকা আপনার জন্য বন্ধ" লেখা আসত, এখন আসে না কেন?

ওই লেখাটা তুলে দেওয়া হয়েছে। আগে অনুমতি বন্ধ থাকলে পাতাটা ফাঁকা থাকত আর শুধু একটা বার্তা দেখাত — যেটা দেখে অনেকে ভাবতেন নিজের হাজিরাও বুঝি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ওই জায়গায় আপনার নিজের হাজিরাটাই দেখানো হয়, তাই আলাদা করে কিছু লেখার দরকার হয় না। এটা একজন প্রধান শিক্ষকের পরামর্শেই বদলানো হয়েছে।

শিক্ষকের ফোনে তালিকাটা একদম খালি আসছে, বা "আনতে পারলাম না" লেখা আসছে — কেন?

তাঁর ফোনে অ্যাপের পুরান ভার্সন আছে। অনুমতিটা সার্ভারে কাজ করে, তাই পুরান ভার্সনেও তিনি অন্যের হাজিরা দেখতে পারবেন না — এইটুকু ঠিকই কাজ করছে। কিন্তু পুরান ভার্সন জানে না ওই জায়গায় তাঁর নিজের হাজিরাটা দেখাতে হবে, তাই পাতাটা ফাঁকা দেখায় বা "আনতে পারলাম না" লেখে। অ্যাপ আপডেট করলে ওখানে তাঁর নিজের হাজিরা চলে আসবে।

রিপোর্টে অনুপস্থিত কলামটাই নাই, "লেখা হয়নি" লেখা আসছে — কেন?

কারণ অ্যাপ এখনো জানে না আপনার প্রতিষ্ঠান কোন দিন বন্ধ থাকে। ওটা না জানলে অ্যাপ ধরে নিতে পারে না ঐ দিন কেউ আসার কথা ছিল কিনা — শুক্রবার আর ঈদের দিনও অনুপস্থিত হয়ে ছাপা হয়ে যেত। সেটিংস → "ছুটি ও বন্ধের দিন" এ গিয়ে সাপ্তাহিক বন্ধ আর ছুটিগুলো একবার বসিয়ে দিন, তারপর আবার রিপোর্ট বের করুন — অনুপস্থিত কলাম চলে আসবে। "লেখা হয়নি" মানে কেউ ফাঁকি দিয়েছে তা নয়, মানে ঐ দিনের কোনো তথ্যই লেখা হয়নি।

সেটিংসে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শুক্রবার দিয়েছি, তাও রিপোর্টে অনুপস্থিত আসছে না।

সেটিংসে দিনের সারি দুই জায়গায় আছে, আর দুইটা এক জিনিস নয়। সেটিংসের ভিতরের "সাপ্তাহিক ছুটির দিন" সারিটা শুধু আপনার নিজের ফোনে কাজ করে — ওটা দিয়ে নিজের ফোনে মনে করানো বার্তা আসে, রিপোর্ট বদলায় না। প্রতিষ্ঠানের জন্য বসাতে হয় সেটিংস → "ছুটি ও বন্ধের দিন" পাতায়, ঐ পাতার উপরে "সাপ্তাহিক ছুটি" ঘরে। ওখানে বসালে প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক একই দিন দেখবেন আর রিপোর্টেও ধরা হবে। ওটা শুধু প্রধান শিক্ষক বা এডমিন বসাতে পারেন।

শিক্ষক কি নিজে নিজেকে অনুপস্থিত বা ছুটি লিখে দিতে পারবেন?

না, পারবেন না — অ্যাপেও না, সার্ভারেও না। নিজের দিনে নিজে "ছুটি" বসাতে পারলে যে কেউ নিজের অনুপস্থিতি মুছে ফেলতে পারত, আর ঐ হিসাবের উপর বেতন নির্ভর করে। শুধু প্রধান শিক্ষক বা এডমিন লিখতে পারেন। শিক্ষক নিজের দিনের হাজিরা দিতে পারেন, কিন্তু অনুপস্থিতির সিদ্ধান্তটা তাঁর নয়।

অনুপস্থিত লিখে দিলে শিক্ষক কি জানতে পারবেন?

হ্যাঁ। আপনি যে কারণটা লিখবেন সেটা শিক্ষক নিজের পাতায় দেখতে পাবেন, আর কে কখন লিখেছেন সেটা "পরিবর্তনের ইতিহাস" এ জমা থাকে। এটা ইচ্ছা করেই — কারো নামের পাশে অনুপস্থিত বসলে তিনি যেন জানেন এবং ভুল হলে বলতে পারেন।

আমার অ্যাপে অনুপস্থিত লিখে দেওয়ার ঘর দেখতে পাচ্ছি না।

এই সুবিধাটা নতুন। প্লে স্টোরে গিয়ে হাজিরা খাতা আপডেট নিন, তারপর অ্যাপ বন্ধ করে আবার খুলুন। আপডেটের পরও না দেখলে দেখবেন ঐ দিনে আগমন বা প্রস্থানের সময় বসানো আছে কিনা — সময় বসানো থাকলে ঘরদুটো আসে না।

গেটে QR পোস্টার লাগাব কীভাবে, আর ওটা লাগালে কী লাভ?

শিক্ষক হাজিরার পাতায় এডমিনের জন্য "স্কুলের QR পোস্টার" নামে একটা অপশন আছে। ওখান থেকে পোস্টারটা বানিয়ে প্রিন্ট করে গেটে বা অফিসে লাগিয়ে দিন। শিক্ষক ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করলেই তাঁর হাজিরা হয়ে যাবে, অ্যাপ খুলে খুঁজতে হবে না। লাভটা মূলত সুবিধার — সকালে গেট দিয়ে ঢোকার সময় এক স্ক্যানেই কাজ শেষ। তালিকায় ওই হাজিরার পাশে লেখা থাকবে যে ওটা স্ক্যান করে দেওয়া হয়েছিল।

পোস্টার স্ক্যান করেছে মানে কি শিক্ষক প্রতিষ্ঠানে ছিলেন?

না, এবং এটা পরিষ্কার করে জানা দরকার। পোস্টারের ছবি একবার তুলে রাখলে সেই ছবি বাড়ি থেকেও স্ক্যান করা যায় — পোস্টারটা একটা স্থির জিনিস, প্রতিদিন বদলায় না। তাই "স্ক্যান করে দিয়েছে" লেখাটা প্রমাণ না, একটা ইঙ্গিত মাত্র। কে কোথায় ছিলেন সেই প্রশ্নে অবস্থান আর দূরত্বের লেখাটাই বেশি কাজের — ওটাও পুরোপুরি প্রমাণ না, কিন্তু স্ক্যানের চেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ। অ্যাপ নিজেই পোস্টারের পাতায় এই কথাটা লিখে রেখেছে, যাতে কেউ ভুল ভরসা না করেন।

শুধু স্ক্যান করলেই হাজিরা হবে, বাটনে চাপলে হবে না — এভাবে বাধ্যতামূলক করা যাবে?

এখনো যায় না। এই মুহূর্তে অ্যাপ কোনো কিছুই আটকায় না — স্ক্যান, আঙুলের ছাপ, অবস্থান, সময়, সবগুলাই হাজিরার সাথে লিখে রাখা হয়, কিন্তু কোনোটা না থাকলেও হাজিরা হয়ে যায়। এটা ইচ্ছা করেই এভাবে রাখা হয়েছে, কারণ ক্যামেরা নষ্ট, পোস্টার ছেঁড়া, জিপিএস না ধরা — এসব সত্যিকারের শিক্ষককেই আটকে দিত। বাধ্যতামূলক করার অনুরোধ আমরা পেয়েছি এবং কাজটা তালিকায় আছে; করলে সাথে এডমিনের হাতে অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখতে হবে, নাহলে যে শিক্ষক সত্যিই এসেছেন তিনিই আটকে যাবেন।

একই ফোন থেকে কয়েকজন শিক্ষক হাজিরা দিলে বোঝা যাবে?

তালিকায় প্রতিটা হাজিরার সাথে কোন ফোন থেকে দেওয়া হয়েছিল তার একটা চিহ্ন জমা থাকে। একই চিহ্ন কয়েকজনের নামের পাশে থাকলে বুঝবেন একই ফোন ব্যবহার হয়েছে। অ্যাপ এখনো নিজে থেকে এটা আটকায় না বা লাল দাগ দেয় না — তথ্যটা আছে, দেখে নিতে হবে।

ম্যাপ দেখে কি প্রমাণ হয় শিক্ষক প্রতিষ্ঠানে ছিলেন?

না, আর এটাই সবচেয়ে জরুরি কথা। অবস্থান বলে ফোনটি কোথায় ছিল বলে জানিয়েছে — শিক্ষক ভিতরে ছিলেন, এটি তার প্রমাণ নয়। ফোন বাইরে রেখে ভিতরে যাওয়া যায়, আবার জিপিএস ভুলও করতে পারে। ম্যাপটা কথা বলার শুরু, শেষ কথা নয় — সন্দেহ হলে শিক্ষকের সাথে কথা বলে নিন।

"অবস্থান দেননি" আর "অবস্থান পাওয়া যায়নি" — দুইটা কি এক?

না, দুইটা আলাদা এবং এই পার্থক্যটা মনে রাখা দরকার। "অবস্থান দেননি" মানে শিক্ষক অনুমতি দেননি — এটা তাঁর অধিকার, অবস্থান দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। "অবস্থান পাওয়া যায়নি" মানে তিনি অনুমতি দিয়েছিলেন কিন্তু ফোন জিপিএস ধরতে পারেনি — পাকা ঘরের ভিতরে বা দুর্বল নেটওয়ার্কে এটা খুব সাধারণ ব্যাপার। কোনোটাই ফাঁকি দেওয়ার লক্ষণ নয়।

পুরনো হাজিরাগুলোতে অবস্থান দেখাচ্ছে না কেন?

এই সুবিধা চালু হওয়ার আগে যত হাজিরা হয়েছে, সেগুলোতে কোনো অবস্থান জমা হয়নি — তাই ওখানে কিছুই দেখাবে না। পুরনো দিনের জন্য এটা পরে বসানো যায় না। নতুন হাজিরাগুলো থেকেই দেখতে পাবেন।

"নকল অবস্থানের অ্যাপ পাওয়া গেছে" লেখা দেখছি — এর মানে কী?

ফোনে জিপিএস নকল করার অ্যাপ চালু ছিল, অ্যাপ সেটা ধরতে পেরেছে এবং লুকায়নি। জায়গাটা তবু রাখা হয় যাতে আপনি দেখতে পারেন কী দাবি করা হয়েছিল। এটা গুরুতর ব্যাপার, তবে সরাসরি অভিযোগ করার আগে শিক্ষকের সাথে কথা বলুন — কিছু ফোনে গেম বা অন্য কারণে এমন অ্যাপ থেকে যায়।

শিক্ষক হাজিরা ট্যাবে চাপলে কিছুই আসছে না, পর্দা ফাঁকা — কেন?

কারণ আপনি এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত নন। শিক্ষক হাজিরা প্রতিষ্ঠানের হিসাব — প্রতিষ্ঠান না থাকলে দেখানোর মতো কোনো শিক্ষকই নাই, তাই জায়গাটা খালি থাকে। অ্যাপ নষ্ট হয়নি, আপডেটও লাগবে না। আগে প্রাতিষ্ঠানিক প্রোফাইল খুলুন ("প্রতিষ্ঠান সাজাবেন কীভাবে" দেখুন), তারপর এই ট্যাব নিজে থেকেই কাজ করবে।

প্রতিষ্ঠান আছে, তবু তালিকায় কোনো শিক্ষকের নাম নাই।

প্রতিষ্ঠান খোলা আর শিক্ষক যোগ করা — এই দুইটা আলাদা কাজ। প্রতিষ্ঠান খুললেই শিক্ষক চলে আসে না। আগে শিক্ষকদের যুক্ত করতে হবে, তারপর তাদের নাম এই তালিকায় আসবে।

যে শিক্ষকের স্মার্টফোন নাই, তাকে তালিকায় রাখব কীভাবে?

"ফোন নেই এমন শিক্ষক বা কর্মী যোগ করুন" চাপুন। নাম লিখে দিলেই তিনি তালিকায় চলে আসবেন, আর আপনি তার হয়ে হাজিরা বসিয়ে দিতে পারবেন। তার নিজের অ্যাপ লাগবে না।

যাঁর নাম হাতে লিখেছিলাম, তিনি এখন নিজে অ্যাপ চালান — নাম দুইবার আসছে, কী করব?

"ফোন নেই এমন শিক্ষক বা কর্মী" তালিকা খুলে হাতে লেখা নামটার উপর চাপ দিন, তারপর "এখন ফোন ব্যবহার করছেন" চেপে তাঁর নিজের অ্যাকাউন্টটা বেছে দিন। দুইটা এন্ট্রি এক হয়ে যাবে, আর হাতে লেখা নামের নিচে আগে যত হাজিরা ও তথ্য জমা ছিল সবই তাঁর অ্যাকাউন্টের নিচে চলে আসবে — কিছুই হারায় না। এটা না করলে অ্যাপ ওদের দুইজন আলাদা মানুষ ভাবে, তাই হাজিরার তালিকা, পরিচয়পত্র আর বেতনের তালিকা — সব জায়গাতেই নামটা দুইবার দেখায়।

এটা কি ছাত্রদের হাজিরা?

না। এটা শিক্ষক ও কর্মীদের — কে আজ প্রতিষ্ঠানে এসেছেন। ছাত্রদের হাজিরা ক্লাসের ভিতরে "উপস্থিতি নিন" থেকে নিতে হয়।

শিক্ষক হাজিরা ব্যবহার করতে কি টাকা লাগে?

না। এখন হাজিরা খাতার কোনো অংশে টাকা লাগে না, শিক্ষক হাজিরাতেও না।

রিপোর্টে কে কত দিন অনুপস্থিত ছিল দেখা যায়, কিন্তু কোন কোন তারিখে ছিল সেটা কোথায় দেখব?

সারাংশ টেবিলের নিচে "প্রতি শিক্ষকের বিস্তারিত" অংশে প্রত্যেক শিক্ষকের নামের নিচে তারিখগুলো লেখা থাকে — "অনুপস্থিত ছিলেন — ১৮ আগস্ট ২৬, ১৯ আগস্ট ২৬, ২০ আগস্ট ২৬" এইভাবে। এক মাসের বেশি লম্বা হলে প্রথম ৩১টা তারিখ লিখে বাকিটা "আরও ৭ দিন" বলে দেওয়া হয়, না হলে পুরো পাতা শুধু তারিখেই ভরে যেত। এটা ৩.২.২১৭ থেকে আছে আর এখন সবার অ্যাপেই চলে গেছে — আপনার প্রিন্টে তারিখের লাইনটা না দেখলে বুঝবেন অ্যাপটা পুরানো, Play Store এ গিয়ে একবার আপডেট করে নিন; সংখ্যাটা আগের মতোই ঠিক আছে। আর একটা কথা মনে রাখবেন — ছুটির দিন বসানো না থাকলে অ্যাপ জানেই না কোন দিন প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল, তাই তখন কাউকে অনুপস্থিত ধরা হয় না আর তারিখও লেখা হয় না; শুধু আপনি নিজে হাতে "অনুপস্থিত" লিখে দিলে সেই দিনটা আসে।

রিপোর্টে একটা তারিখের পাশে "বাতিল" লেখা — এটা কি অনুপস্থিত?

না, উল্টাটা। "৬ আগস্ট ২৬ · বাতিল — আসে নাই" এই লাইনটার মানে হলো ওই দিনটা আপনি নিজেই বাতিল করে দিয়েছিলেন, আর "আসে নাই" কথাটা আপনি বা আপনার প্রতিষ্ঠানের কেউ বাতিল করার সময় কারণ হিসেবে লিখেছিলেন — অ্যাপ ওটা লেখেনি, শুধু ছাপিয়েছে। বাতিল করা দিন উপস্থিতির হারেই ধরা হয় না, তাই ওটা অনুপস্থিতের সংখ্যার ভিতরেও নেই। সত্যিকারের অনুপস্থিত দিনগুলো আলাদা লাইনে থাকে — "অনুপস্থিত ছিলেন — ..." দিয়ে শুরু। তারিখের পাশে কোন ধরনের দিন সেটা লেখা থাকে ৩.২.২১৯ থেকে, আর এটা এখন সবার অ্যাপেই চলে গেছে; তার আগের অ্যাপে শুধু তারিখ আর কারণটাই ছাপা হতো, ফলে ওটাকে অনুপস্থিতির তারিখ বলে ভুল হওয়াই স্বাভাবিক ছিল।

শিক্ষক মাদরাসায় ঢোকার সময় একবার আর বের হওয়ার সময় একবার হাজিরা দিতে পারবে?

পারবে, এটা এখনই আছে। শিক্ষক আসার সময় একবার দেন, আর যাওয়ার সময় "বের হলাম" দিয়ে আরেকবার। দিনের ভিতরে কেউ বাসায় গিয়ে আবার ফিরে আসলে সেটাও আলাদা করে জমা থাকে — যতবার আসা-যাওয়া, ততবার। তালিকায় তখন কে এই মুহূর্তে ভিতরে আছে সেটাও দেখা যায়, আর কে ঢুকেছে কিন্তু বের হওয়ার সময় হাজিরা দেয়নি সেটাও। || যাদের হেফজখানায় থাকার কারণে বের হওয়াই লাগে না, তাদের জন্য আলাদা কিছু বন্ধ করার দরকার নাই — বের হওয়ার হাজিরা কেউ না দিলে ঘরটা খালিই থাকে, অ্যাপ নিজে থেকে কোনো সময় বসিয়ে দেয় না। তাই কোনো সেটিংস খুঁজতে হবে না; যারা দেবে তারা দেবে, যারা দেবে না তাদের কিছুই বদলায় না।

AI-কে জিজ্ঞেস করুন

এই পাতাটা নিয়ে AI অ্যাপকে সহজ বাংলায় বুঝিয়ে দিতে বলুন।

AI অ্যাপ ব্যবহার করা শিখুন

গুগল প্লে থেকে ফ্রি ডাউনলোড করুন

আরও টিউটোরিয়াল