যাকাত ও দান-অনুদানের হিসাব রাখবেন কীভাবে

হালনাগাদ ২০ আগস্ট ২০২৬

রমজানে মাদ্রাসার সব শিক্ষক বিভিন্ন জায়গা থেকে যাকাত আর দান তোলেন। কেউ তিন হাজার, কেউ পাঁচ হাজার। মাস শেষে মুহতামিম সাহেব জিজ্ঞেস করেন — মোট কত উঠল, কে কত তুলল, আর কত বিতরণ হলো। এতদিন এইটা খাতায় লিখে রাখতে হতো, আর যাকাতের টাকা আর প্রতিষ্ঠানের টাকা এক খাতায় গেলে হিসাব গুলিয়ে যেত।

যাকাত, ফিতরা, সদকা আর অনুদানের আলাদা হিসাব — কে দিলেন, কোন শিক্ষক তুললেন, কোথায় বিতরণ হলো।

  1. প্রতিষ্ঠানের পাতায় যান, তারপর "সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান ড্যাশবোর্ড" চাপুন। একটু নিচে নামলে "যাকাত ও দান-অনুদান" ঘরটা পাবেন।

  2. উপরে তিনটা সংখ্যা দেখবেন — মোট সংগ্রহ, মোট বিতরণ, আর অবশিষ্ট। তার নিচে যাকাত-ফিতরা আর সদকা-সাধারণ দান আলাদা করে দেখানো থাকে।

    এই হিসাব প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, আর ইচ্ছা করেই আলাদা রাখা হয়েছে। যাকাতের টাকা নির্দিষ্ট খাত ছাড়া খরচ করা যায় না, তাই দুইটা হিসাব কখনো এক করা হয় না। এখান থেকে প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে টাকা নেওয়ার কোনো বাটন নাই — দরকার হলে আয়-ব্যয়ে নিজে হাতে একটা আয় লিখে নিতে হবে।

  3. টাকা তুললে "নতুন যাকাত/দান যোগ করুন" চাপুন। উপরে ধরন বাছুন — যাকাত, ফিতরা, সদকা, সাধারণ দান, ওয়াকফ বা অন্যান্য।

    ধরনটা ঠিকভাবে বাছবেন। যাকাত আর ফিতরার টাকা নির্দিষ্ট খাতেই খরচ করতে হয়, আর সদকা বা সাধারণ দান মাদ্রাসার যেকোনো কাজে লাগানো যায়। ভুল ধরনে বসালে হিসাবটা আর ঠিক করা যায় না।

  4. টাকার পরিমাণ, দাতার নাম আর মোবাইল নম্বর লিখুন। মাধ্যম (নগদ, বিকাশ, ব্যাংক) আর কোন উদ্দেশ্যে দিয়েছেন সেটাও লিখে রাখতে পারেন।

  5. "সংরক্ষণ করুন" চাপলেই হিসাবে বসে যাবে। কে তুলল সেটা অ্যাপ নিজেই ধরে নেয় — যিনি লিখছেন, তার নামেই জমা হয়।

    নেট না থাকলেও কাজ করবে। লিখে সংরক্ষণ করে দিন, নেট আসলে নিজে থেকেই জমা হয়ে যাবে। গ্রামে টাকা তোলার সময় এইটা কাজে লাগবে।

  6. টাকা বিতরণ করলে "বিতরণ/খরচ যোগ করুন" চাপুন। কোন ফান্ড থেকে যাচ্ছে সেটা বাছুন, প্রাপকের নাম আর টাকার পরিমাণ লিখুন।

    যেই ফান্ডে টাকা নাই, সেই ফান্ড থেকে বিতরণ করা যাবে না — অন্য ফান্ডে টাকা থাকলেও না। যাকাতের হিসাব যাকাতের, সদকার হিসাব সদকার। অ্যাপ এইটা আটকে দিবে।

  7. নিচের তিনটা বাটন দিয়ে তিনভাবে দেখতে পারবেন — "সকল লেনদেন", "দাতা তালিকা", আর "শিক্ষকভিত্তিক সংগ্রহ"।

  8. "শিক্ষকভিত্তিক সংগ্রহ" চাপলে কোন শিক্ষক মোট কত টাকা তুলেছেন সেটা বেশি থেকে কম হিসাবে সাজানো দেখবেন।

  9. "দাতা তালিকা" চাপলে কে মোট কত টাকা দিয়েছেন দেখা যাবে। একই দাতা বারবার দিলে সব একসাথে যোগ হয়ে যায়।

    একই নামের দুইজন দাতা আলাদা রাখতে হলে মোবাইল নম্বরটা অবশ্যই লিখবেন। নম্বর দিয়েই অ্যাপ বোঝে কে কে — নম্বর না দিলে একই নামের দুইজনের হিসাব এক হয়ে যেতে পারে।

  10. যেকোনো লেনদেনের পাশে "রসিদ" লেখাটা আছে। ওইটা চাপলে রসিদ তৈরি হয়ে শেয়ার করার অপশন আসবে — হোয়াটসঅ্যাপে বা যেকোনো জায়গায় পাঠানো যাবে।

    রসিদ যেকোনো শিক্ষক বের করতে পারেন, শুধু এডমিন না। কারণ যিনি টাকাটা নিয়েছেন তিনিই দাতার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন — রসিদটা তখনই দরকার।

  11. রসিদে মাদ্রাসার নাম, রসিদ নম্বর, দাতার নাম, ধরন, টাকার পরিমাণ আর কে সংগ্রহ করেছেন সব লেখা থাকে। প্রতিটা রসিদের আলাদা নম্বর থাকে, যেটা দিয়ে পরে মিলিয়ে দেখা যায়।

  12. রসিদের লেখা ছোট বা বড় লাগলে নিচের "রসিদের লেখার আকার ও ফন্ট" চেপে ঠিক করে নিতে পারবেন।

  13. কোনো হিসাব ভুল হলে ঠিক করতে বা বাদ দিতে — তালিকায় ওই লেনদেনটার উপর চাপ দিন। পুরা ঘরটাই চাপা যায়, শুধু "রসিদ" লেখাটা না। চাপলে আগের লেখা তথ্যগুলো নিয়ে ঘরটা আবার খুলবে; বদলে "সংরক্ষণ করুন" চাপুন, আর একদম মুছে ফেলতে নিচের "বাদ দিন" চাপুন।

    বাদ দেওয়ার বোতামটা শুধু এডমিন ও প্রধান শিক্ষক দেখবেন। সাধারণ শিক্ষক নিজের তোলা হিসাবটা খুলে ঠিক করতে পারবেন, কিন্তু মুছতে পারবেন না। টেস্ট করার জন্য কিছু লিখে থাকলে এভাবেই মুছে ফেলবেন।

সাধারণ প্রশ্ন

যাকাতের টাকা কি প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ে চলে যাবে?

না, কখনো না। এই দুইটা হিসাব সম্পূর্ণ আলাদা রাখা হয়েছে এবং এক করার কোনো বাটনও নাই। কারণ যাকাতের টাকা নির্দিষ্ট খাত ছাড়া খরচ করা যায় না — একবার প্রতিষ্ঠানের সাধারণ হিসাবে মিশে গেলে কোন টাকা কোথায় গেল সেটা আর আলাদা করা যায় না। প্রয়োজন হলে আয়-ব্যয়ে নিজে হাতে একটা আয় লিখে নিবেন।

সব শিক্ষক কি টাকা তুলে হিসাবে বসাতে পারবেন?

জি, পারবেন। মাদ্রাসার সব শিক্ষকই বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা তোলেন, তাই সবাই নতুন সংগ্রহ যোগ করতে পারেন। তবে কোনো হিসাব বদলানো বা মুছে ফেলা শুধু এডমিন বা প্রধান শিক্ষক করতে পারবেন।

সদকার ফান্ডে অনেক টাকা আছে, কিন্তু যাকাত বিতরণ করতে গেলে আটকে দিচ্ছে কেন?

কারণ প্রতিটা ফান্ডের হিসাব আলাদা। সদকার টাকা দিয়ে যাকাতের বিতরণ করা যায় না — যাকাতের ফান্ডে যত টাকা জমা আছে, তার বেশি যাকাত বিতরণ করা যাবে না। এইটা ইচ্ছা করেই আটকানো, কারণ দুইটা টাকার খরচের নিয়ম আলাদা।

নেট ছাড়া কি টাকার হিসাব লেখা যাবে?

জি, যাবে। লিখে সংরক্ষণ করে দিন — নেট আসলে নিজে থেকেই জমা হয়ে যাবে। গ্রামে বা মসজিদে টাকা তোলার সময় নেট না থাকলেও কোনো সমস্যা নাই।

রসিদে বকেয়া বা মওকুফের ঘর নাই কেন?

কারণ দান বা যাকাতের বেলায় ওই দুইটা জিনিস নাই। মাদ্রাসা কারো কাছ থেকে দান দাবি করে না, তাই কেউ কম দিলে বকেয়া হয় না, আর মওকুফেরও প্রশ্ন আসে না। রসিদে শুধু কত টাকা গৃহীত হয়েছে সেটাই লেখা থাকে — এইটাই সঠিক।

ওয়াকফের টাকাও কি এখানে রাখা যাবে?

জি, ধরন হিসাবে "ওয়াকফ" আছে। তবে মনে রাখবেন, ওয়াকফের মূল টাকা সাধারণত খরচ করা হয় না, শুধু তার আয় খরচ হয় — এই নিয়মটা অ্যাপ ধরে রাখতে পারে না, সেটা আপনাকেই দেখতে হবে। অ্যাপ শুধু ওয়াকফের হিসাবটা আলাদা রাখে যাতে সাধারণ দানের সাথে মিশে না যায়।

AI-কে জিজ্ঞেস করুন

এই পাতাটা নিয়ে AI অ্যাপকে সহজ বাংলায় বুঝিয়ে দিতে বলুন।

AI অ্যাপ ব্যবহার করা শিখুন

গুগল প্লে থেকে ফ্রি ডাউনলোড করুন

আরও টিউটোরিয়াল