বেতন আদায় করবেন কীভাবে
মাসের বেতন একবার তৈরি করুন, তারপর যে টাকা দিল তার ঘরে বসিয়ে দিন। কে কত বাকি, নিজেই হিসাব হয়ে যাবে।
-
ক্লাসের কার্ডে "দেখুন" চেপে ভিতরে ঢুকুন, তারপর "বেতন/ভাতা/ফি হিসাব" চাপুন।
-
নিচের প্লাস (+) বাটনে চাপ দিন। "নতুন বেতন/ভাতা/ফি তৈরি করুন" খুলবে।
-
"নাম*" ঘরে লিখুন কী টাকা — যেমন মাসিক বেতন। তারপর কোন মাসের, সেটা বেছে নিন।
-
"জন প্রতি টাকার পরিমাণ" ঘরে প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে কত নেবেন সেটা লিখুন — যেমন ৫০০।
-
"যুক্ত করুন" চাপুন। হিসাবটা তৈরি হয়ে গেল, আর মোট কত আসতে পারে সেটাও দেখাবে।
-
এবার নতুন তৈরি হওয়া হিসাবের কার্ডে চাপ দিন। প্রথমে "বিস্তারিত" পাতা খুলবে — টাকার হিসাব। ছাত্রদের তালিকা পেতে উপরে "টাকা কালেকশন" লেখাটাতে চাপ দিন।
-
তালিকাটা নিজে থেকেই ভাগ করা থাকে — উপরে যারা এখনো দেয়নি ("সম্পূর্ণ বকেয়া"), নিচে যারা দিয়ে দিয়েছে ("সম্পূর্ণ গৃহীত")। কার কাছে কত বাকি, প্রত্যেকের নামের নিচেই লেখা থাকে।
-
যে ছাত্র টাকা দিয়েছে তার নামে চাপ দিন, "আদায়কৃত টাকার পরিমাণ" ঘরে টাকাটা লিখুন, তারপর "আপডেট" চাপুন।
-
চাইলে "স্লিপ পাঠান" চেপে অভিভাবককে রশিদ পাঠিয়ে দিতে পারেন।
-
ক্লাসের সবার বেতন এক না হলে — যেমন এতিম বা গরিব ছাত্রের কম — প্রত্যেকের জন্য আলাদা টাকা বসানো যায়। ওই ছাত্রের নামে চেপে "টাকা কালেকশন করুন" বাক্সটা খুলুন। একদম উপরে "জনপ্রতি টাকার পরিমাণ" লেখা আর তার পাশে ক্লাসের টাকাটা দেখাবে। তার ঠিক নিচেই লেখা আছে "এই শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা টাকা ঠিক করুন" — নতুন ভার্সনে এটা কলমের ছবিওয়ালা ছোট বোতাম, পুরানো ভার্সনে শুধু লেখা। চাপ দিলে একটা ঘর আসবে, ওই ছাত্রের নিজের টাকাটা লিখে "সেভ করুন" চাপুন।
"মওকুফ" আর "আলাদা টাকা" এক জিনিস না, আর এখানেই বেশির ভাগ ভুল হয়। "মওকুফ" এই মাসের জন্য এককালীন ছাড় — প্রতি মাসে আবার লিখতে হবে। "আলাদা টাকা" ওই ছাত্রের স্থায়ী বেতন — একবার বসালেই হলো, এরপর থেকে তার বকেয়া নিজে থেকেই কম হিসাব হবে। যার বেতনই কম, তার জন্য "আলাদা টাকা" বসান। আর আলাদা টাকা বসিয়ে আবার মওকুফও লিখবেন না — তাহলে হিসাব দুইবার কমে যাবে। 🙏
সাধারণ প্রশ্ন
এক রশিদে ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফি, মাসিক বেতন — এতগুলা একসাথে কীভাবে আসে?
একসাথে যোগ করার দরকার নাই, আর একসাথে যোগ করার কোনো জায়গাও নাই। প্রত্যেকটা ফি আলাদা করে + দিয়ে বানাতে হয় — একবার "ভর্তি ফি", আবার + চেপে "পরীক্ষার ফি", আবার + চেপে "মাসিক বেতন"। যতগুলা খাত, ততবার। এরপর ওই ছাত্রের ঘরে গিয়ে প্রত্যেক ফিতে যে টাকা নিয়েছেন সেটা বসিয়ে দিন। রশিদ বানানোর সময় অ্যাপ নিজেই ওই ছাত্রের সব ফি এক রশিদে সাজিয়ে দেয়, প্রত্যেকটা আলাদা লাইনে, নিচে মোট। আপনাকে কিছু জোড়া লাগাতে হয় না।
রশিদে একটা ফি-র লাইন আসছে না কেন?
যে ফিতে এখনো এক টাকাও নেওয়া হয়নি, সেটার লাইন রশিদে ওঠে না — রশিদ হলো যা নেওয়া হয়েছে তার কাগজ। ওই ফিতে টাকা বসিয়ে দিলেই লাইনটা চলে আসবে। তবে বকেয়ার হিসাবে ওই ফি ঠিকই ধরা থাকে।
"আলাদা টাকা ঠিক করুন" লেখাটা আমার ফোনে দেখা যাচ্ছে না।
আগে জায়গাটা মিলিয়ে নিন — অনেকেই ভুল পাতায় খোঁজেন। ফি বানানোর পাতায় এটা নাই। যেতে হবেঃ ফি-টার ভিতরে ঢুকে উপরে "টাকা কালেকশন" ট্যাব → ছাত্রের নামে চাপ → "টাকা কালেকশন করুন" বাক্সটা উঠবে → একদম উপরে "জনপ্রতি টাকার পরিমাণ" লেখার ঠিক নিচে লেখা "এই শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা টাকা ঠিক করুন" — নতুন ভার্সনে কলমের ছবিওয়ালা বোতাম, পুরানোতে শুধু ছোট করে লেখা। ওটাই। জায়গামতো গিয়েও যদি না থাকে, তাহলে অনুমতির ব্যাপার — প্রাতিষ্ঠানিক ক্লাসে শুধু প্রতিষ্ঠানের এডমিন কারো টাকা আলাদা করতে পারেন, তাই অন্যদের কাছে বোতামটা দেখাই যায় না। নিজের ব্যক্তিগত ক্লাসে সবসময় পারবেন। এডমিনকে বলুন করে দিতে।
এই ছাত্রের বেতন সবসময়ই কম — প্রতি মাসে মওকুফ লিখব, নাকি একবারে ঠিক করে দেওয়া যায়?
একবারেই ঠিক করে দিন, প্রতি মাসে লেখার দরকার নাই। দুইটা জিনিস আলাদা — "মওকুফ" হলো এই মাসের জন্য এককালীন ছাড়, আর "আলাদা টাকা" হলো ওই ছাত্রের স্থায়ী বেতন। যার বেতনই কম (এতিম, গরিব, শিক্ষকের ছেলে), তার জন্য "আলাদা টাকা" বসিয়ে দিন — এরপর থেকে ওই ছাত্রের বকেয়া নিজে থেকেই কম হিসাব হবে, প্রতি মাসে আর হাত দিতে হবে না। শুধু কোনো এক মাসে ছাড় দিলে তখন "মওকুফ" লিখুন।
বেতন আদায় করতে নেট লাগবে?
না, নেট ছাড়াই টাকা বসাতে পারবেন — ফোনে সেভ হয়ে থাকবে, নেট এলে নিজে থেকেই চলে যাবে। টিক চিহ্নের জন্য অপেক্ষা করবেন না।
আগে হিসাব তৈরি না করে সোজা টাকা বসানো যায় না?
না। আগে "নতুন বেতন/ভাতা/ফি তৈরি করুন" দিয়ে মাসের হিসাবটা বানাতে হবে, তারপরই ছাত্রদের ঘরে টাকা বসানোর জায়গা আসবে।
ক্লাসে ছাত্র যোগ করা না থাকলে?
আগে ছাত্রদের নাম-রোল তুলে নিতে হবে, নাহলে টাকা বসানোর তালিকাই ফাঁকা থাকবে।
ক্লাসটা আমার, কিন্তু "বেতন/ভাতা/ফি হিসাব" বাটনটাই দেখতে পাচ্ছি না। অ্যাপে সমস্যা?
না, অ্যাপে কোনো সমস্যা নাই এবং কিছু হারায়নি। প্রতিষ্ঠানের এডমিন চাইলে ক্লাস ধরে ধরে ঠিক করে দিতে পারেন কারা বেতন তুলবেন। আপনাকে ঐ তালিকায় না রাখলে ঐ ক্লাসের বাটনটা আপনার কাছে দেখাবে না — হাজিরা, শিক্ষার্থী, রিপোর্ট সব আগের মতোই থাকবে। ছাত্রের প্রোফাইল বা "প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী" তালিকা দিয়ে ঢুকতে গেলেও লেখা আসবে "এই ক্লাসের বেতন কালেকশনের অনুমতি আপনার নাই"। এডমিনকে বলুন: ক্লাসের "এডিট" → "বেতন কালেকশনের অনুমতি" ঘরে গিয়ে আপনার নামে টিক দিয়ে "ঠিক আছে" চাপতে। তারপর অ্যাপ পুরো বন্ধ করে আবার খুললেই বাটনটা ফিরে আসবে।
আমার সহকারী শিক্ষক তো ক্লাসের সব ছাত্রের বকেয়া আর "বেতন/ভাতা/ফি হিসাব" দেখতে পাচ্ছেন। টিউটোরিয়ালে তো লেখা ছিল সাধারণ শিক্ষক হিসাব দেখতে পাবেন না?
ওই লেখাটা **স্টাফদের বেতন** আর **প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়** নিয়ে — ওই দুইটা সাধারণ শিক্ষকের জন্য এখনো পুরা বন্ধ। কিন্তু "বেতন" শব্দটা অ্যাপে দুই জায়গায় আছে বলে গোলমাল লাগে: ক্লাসের ভিতরের **"বেতন/ভাতা/ফি হিসাব"** হলো ছাত্রদের বেতন, আর আয়-ব্যয় ট্যাবের **"বেতন ব্যবস্থাপনা"** হলো স্টাফদের বেতন। নিজের ক্লাসের ছাত্রদের বেতন শ্রেণী শিক্ষক দেখবেন আর টাকা তুলবেন — ওটা বন্ধ করলে তিনি কালেকশনই করতে পারতেন না। তবে ফি-র **পরিমাণ বা নাম বদলানো, নতুন ফি বানানো, ফি মুছে ফেলা** তাঁর কাজ না, ওগুলা শুধু এডমিন/প্রধান শিক্ষকের — ২০২৬ সালের আগস্টের আপডেট থেকে চাপলেই "শুধু এডমিনের জন্য" লেখা আসে। আর তাঁকে ঐ ক্লাসের টাকাও তুলতে দিতে না চাইলে ক্লাসের "এডিট" → "বেতন কালেকশনের অনুমতি" ঘর থেকে বন্ধ করে দিন। কোন পদবী কী কী পায় তার পুরা তালিকা আছে "কর্মকর্তার পদবী ও অনুমতি" পাতায়।
AI-কে জিজ্ঞেস করুন
এই পাতাটা নিয়ে AI অ্যাপকে সহজ বাংলায় বুঝিয়ে দিতে বলুন।
কপি হয়েছে — এখন পেস্ট করুন
গুগল প্লে থেকে ফ্রি ডাউনলোড করুন
আরও টিউটোরিয়াল
- মার্কশিট বানাবেন কীভাবে বিষয়ের নম্বরপত্র তৈরি করুন, নম্বর বসান, তারপর পুরো ক্লাসের মার্কশিট প্রিন্ট করে নিন।
- প্রবেশপত্র বানাবেন কীভাবে পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিজেই বানিয়ে প্রিন্ট করে নিন — লোগো, সাক্ষর, তারিখ সবসহ।
- পরিচয়পত্র বানাবেন কীভাবে ছাত্রদের পরিচয়পত্র নিজেই বানিয়ে প্রিন্ট করে নিন — লোগো আর ছবিসহ।
- মেশিন থেকে হাজিরা আনবেন কীভাবে আঙুলের ছাপের মেশিন থেকে ফাইল নামিয়ে সেটা অ্যাপে তুলে দিন — হাজিরা নিজে থেকেই বসে যাবে।
- আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখবেন কীভাবে প্রতিষ্ঠানের টাকা কোথা থেকে এলো আর কোথায় গেল — সবই এক খাতায়।
- অ্যাপে ঢুকবেন কীভাবে ফোন নম্বর দিয়ে প্রথমবার অ্যাপে ঢোকা। ইমেইল বা পাসওয়ার্ড কিছু লাগবে না।
- আমার সন্তান দেখবেন কীভাবে অ্যাকাউন্ট ছাড়াই সন্তানের হিসাব রাখুন — টিকার তারিখ, স্মৃতি, নিজের রাখা হাজিরা।
- প্রতিষ্ঠান সাজাবেন কীভাবে প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল একবার খুললে অন্য শিক্ষকদের যুক্ত করা যায়, আর সবাই একই ক্লাস-ছাত্র দেখতে পান।