বেতন আদায় করবেন কীভাবে

হালনাগাদ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · অ্যাপ ভার্সন 3.2.158

মাসের বেতন একবার তৈরি করুন, তারপর যে টাকা দিল তার ঘরে বসিয়ে দিন। কে কত বাকি, নিজেই হিসাব হয়ে যাবে।

  1. ক্লাসের কার্ডে "দেখুন" চেপে ভিতরে ঢুকুন, তারপর "বেতন/ভাতা/ফি হিসাব" চাপুন।

    collect-fees — ধাপ 1
  2. এই পাতার একদম উপরে কয়েকটা ঘরে টাকার হিসাব দেখাবে, আর ঘরগুলা একসাথে মিলে যায়: মোট ধার্য = হাতে এসেছে + মওকুফ করা হয়েছে + এখনো বাকি। "মোট ধার্য" হলো সবার কাছ থেকে মোট যত টাকা ধরা হয়েছে। "হাতে এসেছে" শুধু সত্যিই যা নেওয়া হয়েছে — মওকুফের এক টাকাও এর মধ্যে নাই। "মওকুফ করা হয়েছে" যা মাফ করে দেওয়া হয়েছে, ঐ টাকা আর কারো কাছে চাওয়া হবে না। "এখনো বাকি" মাফ করার পরে যা এখনো সত্যিই পাওনা আছে। পুরনো ভার্সনে (৩.২.২০৩ ও তার আগে) এই ঘরগুলার নাম ছিল "সম্ভাব্য আয় (মওকুফ বাদে)", "আদায়কৃত টাকার পরিমাণ", "মোট মওকুফ টাকা" আর "মোট বাকি টাকা (মওকুফ সহ)" — টাকার অঙ্ক হুবহু একই, শুধু নামগুলা সোজা করে দেওয়া হয়েছে।

    একজন ২৪০ পুরো দিলেন, আরেকজন ২০০ দিয়ে ৪০ মওকুফ পেলেন — দুইজনই "সম্পূর্ণ গৃহীত" দেখাবে, কিন্তু "হাতে এসেছে" ঘরে যোগ হবে ২৪০+২০০ = ৪৪০, ৪৮০ না। ঐ ৪০ টাকা কখনো হাতে আসেনি, তাই আদায়ের কোনো হিসাবে ওটা ঢোকে না — ওটা আলাদা করে "মওকুফ করা হয়েছে" ঘরে দেখাবে।

  3. নিচের প্লাস (+) বাটনে চাপ দিন। "নতুন বেতন/ভাতা/ফি তৈরি করুন" খুলবে।

    collect-fees — ধাপ 2
  4. "নাম*" ঘরে লিখুন কী টাকা — যেমন মাসিক বেতন। তারপর কোন মাসের, সেটা বেছে নিন।

    "নাম*" ঘরে লিখুন কী টাকা — যেমন মাসিক বেতন। তারপর কোন মাসের, সেটা বেছে নিন।
  5. "জন প্রতি টাকার পরিমাণ" ঘরে প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে কত নেবেন সেটা লিখুন — যেমন ৫০০।

    "জন প্রতি টাকার পরিমাণ" ঘরে প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে কত নেবেন সেটা লিখুন — যেমন ৫০০।
  6. "যুক্ত করুন" চাপুন। হিসাবটা তৈরি হয়ে গেল, আর মোট কত আসতে পারে সেটাও দেখাবে।

    "যুক্ত করুন" চাপুন। হিসাবটা তৈরি হয়ে গেল, আর মোট কত আসতে পারে সেটাও দেখাবে।
  7. এবার নতুন তৈরি হওয়া হিসাবের কার্ডে চাপ দিন। প্রথমে "বিস্তারিত" পাতা খুলবে — টাকার হিসাব। ছাত্রদের তালিকা পেতে উপরে "টাকা কালেকশন" লেখাটাতে চাপ দিন।

    এবার নতুন তৈরি হওয়া হিসাবের কার্ডে চাপ দিন। প্রথমে "বিস্তারিত" পাতা খুলবে — টাকার হিসাব। ছাত্রদের তালিকা পেতে উপরে "টাকা কালেকশন" লেখাটাতে চাপ দিন।
  8. তালিকাটা নিজে থেকেই ভাগ করা থাকে — উপরে যারা এখনো দেয়নি ("সম্পূর্ণ বকেয়া"), নিচে যারা দিয়ে দিয়েছে ("সম্পূর্ণ গৃহীত")। কার কাছে কত বাকি, প্রত্যেকের নামের নিচেই লেখা থাকে।

    তালিকাটা নিজে থেকেই ভাগ করা থাকে — উপরে যারা এখনো দেয়নি ("সম্পূর্ণ বকেয়া"), নিচে যারা দিয়ে দিয়েছে ("সম্পূর্ণ গৃহীত")। কার কাছে কত বাকি, প্রত্যেকের নামের নিচেই লেখা থাকে।
  9. যে ছাত্র টাকা দিয়েছে তার নামে চাপ দিন, "আদায়কৃত টাকার পরিমাণ" ঘরে টাকাটা লিখুন, তারপর "আপডেট" চাপুন।

    যে ছাত্র টাকা দিয়েছে তার নামে চাপ দিন, "আদায়কৃত টাকার পরিমাণ" ঘরে টাকাটা লিখুন, তারপর "আপডেট" চাপুন।
  10. চাইলে "স্লিপ পাঠান" চেপে অভিভাবককে রশিদ পাঠিয়ে দিতে পারেন।

    চাইলে "স্লিপ পাঠান" চেপে অভিভাবককে রশিদ পাঠিয়ে দিতে পারেন।
  11. যারা এখনো টাকা দেয়নি তাদের এক চাপে মনে করিয়ে দিতে পারবেন। "টাকা কালেকশন" ট্যাবে প্রত্যেক দলের নামের নিচে — "সম্পূর্ণ বকেয়া", "আংশিক বকেয়া" — একটা করে "এদের বার্তা পাঠান" বোতাম আছে। চাপলে ঐ দলের সবার জন্য বার্তা তৈরি হয়ে যাবে, আর **প্রত্যেকের বার্তায় তার নিজের অঙ্কটাই বসবে** — একজনের ৫০০, আরেকজনের ১২০। হাতে একটা একটা করে লিখতে হবে না।

    বোতামটা ৩.২.১৯৭ থেকে আছে আর এখন সবার অ্যাপেই চলে গেছে। না দেখলে বুঝবেন অ্যাপটা পুরানো — Play Store এ গিয়ে একবার আপডেট করে নিন। আর কে কীভাবে বার্তাটা পাবেন সেটা দুই রকম। ডিজিটাল ডায়েরিতে যুক্ত অভিভাবকদের কাছে এক চাপেই সবার বার্তা চলে যায়, প্রত্যেকের নিজের অঙ্কসহ, একদম ফ্রি। যাঁরা যুক্ত নন তাঁদের জন্য নিজের সিম থেকে এসএমএস পাঠানোর ব্যবস্থা আসবে — সেখানেও এখন প্রত্যেকের নিজের অঙ্কটাই যাবে, তবে প্রত্যেকের লেখা আলাদা বলে একজন করে পাঠাতে হয়। ৭ জন বকেয়া থাকলে ৭ বার "পাঠান" চাপতে হবে; স্ক্রিনে "৭ জনের মধ্যে ২ নম্বর জন" লেখা থাকবে, তাই কোথায় আছেন বুঝতে পারবেন। এসএমএসে প্রত্যেকের নিজের অঙ্ক যাওয়ার ব্যবস্থাটা নতুন ভার্সনের — পুরানো ভার্সনে সবার কাছে এক লেখাই যেত, অঙ্ক ছাড়া। এসএমএসের খরচ আপনার নিজের সিমের ব্যালেন্স থেকে যাবে — hazirakhata.xyz/bn/tutorials/sms-cost/

  12. ক্লাসের সবার বেতন এক না হলে — যেমন এতিম বা গরিব ছাত্রের কম — প্রত্যেকের জন্য আলাদা টাকা বসানো যায়। ওই ছাত্রের নামে চেপে "টাকা কালেকশন করুন" বাক্সটা খুলুন। একদম উপরে "জনপ্রতি টাকার পরিমাণ" লেখা আর তার পাশে ক্লাসের টাকাটা দেখাবে। তার ঠিক নিচেই লেখা আছে "এই শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা টাকা ঠিক করুন" — নতুন ভার্সনে এটা কলমের ছবিওয়ালা ছোট বোতাম, পুরানো ভার্সনে শুধু লেখা। চাপ দিলে একটা ঘর আসবে, ওই ছাত্রের নিজের টাকাটা লিখে "সেভ করুন" চাপুন।

    ক্লাসের সবার বেতন এক না হলে — যেমন এতিম বা গরিব ছাত্রের কম — প্রত্যেকের জন্য আলাদা টাকা বসানো যায়। ওই ছাত্রের নামে চেপে "টাকা কালেকশন করুন" বাক্সটা খুলুন। একদম উপরে "জনপ্রতি টাকার পরিমাণ" লেখা আর তার পাশে ক্লাসের টাকাটা দেখাবে। তার ঠিক নিচেই লেখা আছে "এই শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা টাকা ঠিক করুন" — নতুন ভার্সনে এটা কলমের ছবিওয়ালা ছোট বোতাম, পুরানো ভার্সনে শুধু লেখা। চাপ দিলে একটা ঘর আসবে, ওই ছাত্রের নিজের টাকাটা লিখে "সেভ করুন" চাপুন।

    "মওকুফ" আর "আলাদা টাকা" এক জিনিস না, আর এখানেই বেশির ভাগ ভুল হয়। "মওকুফ" এই মাসের জন্য এককালীন ছাড় — প্রতি মাসে আবার লিখতে হবে। "আলাদা টাকা" ওই ছাত্রের স্থায়ী বেতন — একবার বসালেই হলো, এরপর থেকে তার বকেয়া নিজে থেকেই কম হিসাব হবে। যার বেতনই কম, তার জন্য "আলাদা টাকা" বসান। আর আলাদা টাকা বসিয়ে আবার মওকুফও লিখবেন না — তাহলে হিসাব দুইবার কমে যাবে। 🙏

  13. অ্যাপ চালু করার আগের পুরনো বকেয়া থাকলে সেটা মাসিক বেতনের অঙ্কের সাথে যোগ করবেন না — আলাদা একটা হিসাব বানান। + চেপে "নাম*" ঘরে লিখুন "পূর্বের বকেয়া", আর "জন প্রতি টাকার পরিমাণ" ঘরে যত জনের বকেয়া একই, সেই অঙ্কটা দিন। এরপর "টাকা কালেকশন" ট্যাবে গিয়ে যাদের অঙ্ক আলাদা তাদের নামে চেপে "এই শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা টাকা ঠিক করুন" → নিজের অঙ্কটা লিখে "সেভ করুন"। আর যাদের কোনো বকেয়াই নাই, তাদের ঘরে ০ লিখে সেভ করুন — তাহলে তাঁদের কাছে এক টাকাও চাওয়া হবে না। এতে আগস্টের বেতন যা ছিল তা-ই থাকল, আর পুরনো বকেয়া নিজের আলাদা ঘরে জমা হলো।

    এই হিসাবে "জন প্রতি টাকার পরিমাণ" ঘরে ০ দেওয়া যাবে না — দিলে "প্রত্যেক শিক্ষার্থী কত টাকা দিবে সেটা লিখুন।" লেখা উঠবে। তাই সবচেয়ে বেশি যাদের যত বকেয়া, সেই অঙ্কটা দিন, বাকিদের ছাত্র ধরে ধরে ঠিক করে নিন। আর যাদের ০ বসাবেন তাঁরা তালিকার উপরের লাল দলেই থেকে যাবেন, পাশে লেখা থাকবে "বকেয়াঃ ০" — ভয়ের কিছু নাই, তাঁদের কাছে কোনো টাকা পাওনা নাই আর মোট বাকির হিসাবেও তাঁরা এক পয়সা যোগ করেন না। লাল রংটা শুধু বলে "এখনো কিছু জমা পড়েনি"।

সাধারণ প্রশ্ন

হাজিরা খাতা ব্যবহার করার আগের পুরনো বকেয়া বেতনগুলো কোথায় উঠাবো?

এখন এর জন্য অ্যাপে নিজস্ব ঘর আছে। বেতনের হিসাবটা খুলে **"শিক্ষার্থীদের আগের বকেয়া যোগ করুন"** চাপুন — এক পাতায় সবার নাম আসবে, যার বকেয়া আছে শুধু তার ঘরে অঙ্কটা লিখে একবার সেভ করলেই হয়ে যাবে। উপরে "এই বকেয়া কোন সময়ের?" ঘরে লিখে দিন (যেমন "জুলাই পর্যন্ত বকেয়া") — এই লেখাটাই পরে টাকার পাশে দেখা যাবে, তাই ছয় মাস পরেও অঙ্কটা কোথা থেকে এলো বোঝা যাবে। যার বকেয়া নাই তার ঘর ফাঁকা রাখুন; দেখে নিশ্চিত হয়েছেন আর কিছু নাই বোঝাতে ০ লিখুন। **মাসিক বেতনের অঙ্ক বাড়িয়ে লিখবেন না** — তাহলে ওই মাসের বেতন আসলে কত ছিল সেটাই আর বোঝা যাবে না, রশিদেও ভুল অঙ্ক ছাপা হবে। বকেয়া বসানোর পর কালেকশনের পাতায় **যার আগের বকেয়া আছে শুধু তার নামে** তিন লাইন দেখাবেঃ "জনপ্রতি টাকার পরিমাণ" (ওই ছাত্রের জন্য আলাদা অঙ্ক বসানো থাকলে লেখাটা হবে "এই শিক্ষার্থীর নির্ধারিত টাকা"), "পূর্বের বকেয়া", আর "মোট দিতে হবে"। যার আগের বকেয়া নাই তার ঘরে ওই মাঝের দুইটা লাইন একদম আসবেই না — শূন্যও দেখায় না, এইটাই ঠিক। তাই তিন লাইন না দেখলে ধরে নিবেন না যে বকেয়া বসে নাই; যার বকেয়া আছে এমন একজনের নামে চাপ দিয়ে দেখেন।

আগস্ট মাসের বেতনের ঘরে বকেয়াসহ বেশি টাকা লিখলে সেপ্টেম্বর মাসেও কি ওই বাড়তি টাকা নিজে থেকে যোগ হয়ে যাবে?

বেতনের অঙ্কটা নিজে থেকে পরের মাসে বসে না — সেপ্টেম্বরের হিসাব আপনি নতুন করে বানাবেন, ৫০০০ লিখলে ৫০০০-ই থাকবে। **তবু আগস্টের ঘরে বকেয়া যোগ করে লিখবেন না** — তাহলে ওই মাসের আসল বেতন কত ছিল সেটাই আর বোঝা যাবে না, রশিদেও ভুল অঙ্ক ছাপা হবে। বকেয়ার জন্য "শিক্ষার্থীদের আগের বকেয়া যোগ করুন" ব্যবহার করুন। **আর যেটা এখন খেয়াল রাখতে হবেঃ বাকি টাকা কিন্তু নিজে থেকেই পরের মাসে চলে আসে।** নতুন হিসাব বানানোর সময় "আগের হিসাবের বাকি টাকা এখানে নিয়ে আসুন" লেখা ঘরে টিক দেওয়াই থাকে, আর কত জনের কত টাকা আসছে সেটাও লেখা থাকে — না চাইলে ওই টিকটা তুলে দিন। **একটা জিনিস এখনো নিজে ঠিক করতে হয়ঃ** টিক দিয়ে নতুন হিসাব বানানোর পর যদি কেউ পুরনো মাসের টাকা পরিশোধ করে, নতুন মাসের "পূর্বের বকেয়া" অঙ্কটা নিজে থেকে কমে না — ওটা হিসাব বানানোর দিনের ছবি। তখন "শিক্ষার্থীদের আগের বকেয়া যোগ করুন"-এ গিয়ে ওই ছাত্রের ঘরে ০ লিখে সেভ করে দিন।

প্রত্যেক ক্লাসের পরীক্ষার ফি আলাদা — হেফজখানা ৪০০, নাযেরা ৩০০, প্রথম ১৫০। এটা কীভাবে করব?

এটাই স্বাভাবিক নিয়ম, আর অ্যাপ এভাবেই বানানো। ফি কখনো পুরা প্রতিষ্ঠানের জন্য এক জায়গায় বানানো হয় না — **প্রত্যেক ক্লাসের ফি ওই ক্লাসের ভিতরে আলাদা করে বানাতে হয়**। তাই হেফজখানায় ঢুকে "পরীক্ষার ফি" বানিয়ে ৪০০ লিখুন, বের হয়ে নাযেরায় ঢুকে আবার "পরীক্ষার ফি" বানিয়ে ৩০০ লিখুন — এভাবে যতগুলা ক্লাস, ততবার। নাম একই রাখলে কোনো সমস্যা নাই, প্রত্যেকটা নিজের ক্লাসের হিসাব নিজে রাখে। ৮ ক্লাস মানে ৮ বার, এর চেয়ে ছোট পথ এখন নাই। একই ক্লাসের ভিতরে কারো টাকা কম হলে সেটা আবার আলাদা ব্যাপার — উপরের ধাপে "আলাদা টাকা" দেখুন।

ক্লাসভিত্তিক ফি-র তালিকা দিয়ে একটা বিজ্ঞপ্তি ছাপাতে চাই — অ্যাপ থেকে বানানো যাবে?

এখানে দুইটা আলাদা জিনিস, গুলিয়ে ফেলা সহজ। এক, বিজ্ঞপ্তি ছাপা — এটা অ্যাপে আসছে; ক্লাসের ভিতরে "বিজ্ঞপ্তি" অপশন থেকে প্রতিষ্ঠানের নাম-লোগোসহ ছুটি, পরীক্ষা, ভর্তি বা সভার বিজ্ঞপ্তি এক পাতায় ছাপা যাবে। দুই, আপনি আসলে যেটা চাইছেন — "কোন ক্লাসের ফি কত" এই তালিকাটা অ্যাপ নিজে থেকে বানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বসিয়ে দেবে, এমন কোনো বোতাম নাই, আর এটা লুকানোর কিছু নাই। ক্লাসের নাম আর টাকার অঙ্কগুলো বিজ্ঞপ্তির লেখার ঘরে আপনাকেই টাইপ করতে হবে। তবে টাকার হিসাবটা অ্যাপেই রাখুন — কে দিল, কে বাকি, কোন ক্লাসে কত উঠল সব নিজে থেকেই হিসাব হবে, আর অভিভাবককে রশিদ পাঠানো যাবে। ফি-র তালিকাটাও নিজে থেকে বসুক — এমন চাইলে হেল্প ডেস্কে জানিয়ে রাখুন।

এক রশিদে ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফি, মাসিক বেতন — এতগুলা একসাথে কীভাবে আসে?

একসাথে যোগ করার দরকার নাই, আর একসাথে যোগ করার কোনো জায়গাও নাই। প্রত্যেকটা ফি আলাদা করে + দিয়ে বানাতে হয় — একবার "ভর্তি ফি", আবার + চেপে "পরীক্ষার ফি", আবার + চেপে "মাসিক বেতন"। যতগুলা খাত, ততবার। এরপর ওই ছাত্রের ঘরে গিয়ে প্রত্যেক ফিতে যে টাকা নিয়েছেন সেটা বসিয়ে দিন। রশিদ বানানোর সময় অ্যাপ নিজেই ওই ছাত্রের সব ফি এক রশিদে সাজিয়ে দেয়, প্রত্যেকটা আলাদা লাইনে, নিচে মোট। আপনাকে কিছু জোড়া লাগাতে হয় না।

রশিদে একটা ফি-র লাইন আসছে না কেন?

যে ফিতে এখনো এক টাকাও নেওয়া হয়নি, সেটার লাইন রশিদে ওঠে না — রশিদ হলো যা নেওয়া হয়েছে তার কাগজ। ওই ফিতে টাকা বসিয়ে দিলেই লাইনটা চলে আসবে। তবে বকেয়ার হিসাবে ওই ফি ঠিকই ধরা থাকে।

"আলাদা টাকা ঠিক করুন" লেখাটা আমার ফোনে দেখা যাচ্ছে না।

আগে জায়গাটা মিলিয়ে নিন — অনেকেই ভুল পাতায় খোঁজেন। ফি বানানোর পাতায় এটা নাই। যেতে হবেঃ ফি-টার ভিতরে ঢুকে উপরে "টাকা কালেকশন" ট্যাব → ছাত্রের নামে চাপ → "টাকা কালেকশন করুন" বাক্সটা উঠবে → একদম উপরে "জনপ্রতি টাকার পরিমাণ" লেখার ঠিক নিচে লেখা "এই শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা টাকা ঠিক করুন" — নতুন ভার্সনে কলমের ছবিওয়ালা বোতাম, পুরানোতে শুধু ছোট করে লেখা। ওটাই। জায়গামতো গিয়েও যদি না থাকে, তাহলে অনুমতির ব্যাপার — প্রাতিষ্ঠানিক ক্লাসে শুধু প্রতিষ্ঠানের এডমিন কারো টাকা আলাদা করতে পারেন, তাই অন্যদের কাছে বোতামটা দেখাই যায় না। নিজের ব্যক্তিগত ক্লাসে সবসময় পারবেন। এডমিনকে বলুন করে দিতে।

এই ছাত্রের বেতন সবসময়ই কম — প্রতি মাসে মওকুফ লিখব, নাকি একবারে ঠিক করে দেওয়া যায়?

একবারেই ঠিক করে দিন, প্রতি মাসে লেখার দরকার নাই। দুইটা জিনিস আলাদা — "মওকুফ" হলো এই মাসের জন্য এককালীন ছাড়, আর "আলাদা টাকা" হলো ওই ছাত্রের স্থায়ী বেতন। যার বেতনই কম (এতিম, গরিব, শিক্ষকের ছেলে), তার জন্য "আলাদা টাকা" বসিয়ে দিন — এরপর থেকে ওই ছাত্রের বকেয়া নিজে থেকেই কম হিসাব হবে, প্রতি মাসে আর হাত দিতে হবে না। শুধু কোনো এক মাসে ছাড় দিলে তখন "মওকুফ" লিখুন।

মওকুফ তো ছাড়/মাফ — কিন্তু "বেতন/ভাতা/ফি হিসাব" পাতার উপরের ঘরগুলাতে সব টাকা একসাথে হিসাব হয়ে যাচ্ছে মনে হয়, মওকুফের টাকাসহ। ভুল হচ্ছে না তো?

ভুল হচ্ছে না — আর এই বিভ্রান্তিটা আমাদেরই দোষ ছিল, তাই ঘরগুলার নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। আগে দুইটা ঘরের নিচে বন্ধনীতে লেখা থাকত "(মওকুফ বাদে)" আর "(মওকুফ সহ)"। "(মওকুফ সহ)" পড়ে স্বাভাবিকভাবেই মনে হতো মাফ করা টাকাটাও বাকির মধ্যে ধরা আছে — আসলে ঠিক উল্টা, ঐ টাকা বাদ দিয়েই বাকি হিসাব হতো। এখন আর বন্ধনীর ওই লেখা নাই। নতুন নাম: "মোট ধার্য", "হাতে এসেছে", "মওকুফ করা হয়েছে", "এখনো বাকি" — আর চারটা যোগ করলেই মিলে যায়। উদাহরণ: ধার্য ১৫০০, হাতে এসেছে ১০০০, মওকুফ ১০০, এখনো বাকি ৪০০ — ১০০০+১০০+৪০০ = ১৫০০। পুরনো ভার্সনে (৩.২.২০৩ ও তার আগে) এই ঘরগুলার নাম ছিল "সম্ভাব্য আয় (মওকুফ বাদে)", "আদায়কৃত টাকার পরিমাণ", "মোট মওকুফ টাকা" আর "মোট বাকি টাকা (মওকুফ সহ)" — টাকার অঙ্ক হুবহু একই, শুধু নামগুলা সোজা করে দেওয়া হয়েছে।

দুইটা ক্লাস খুললাম — একটায় উপরে কম ঘর, আরেকটায় বেশি। একই অ্যাপে দুই রকম কেন?

দুইটাই ঠিক আছে, কোনোটাই নষ্ট না। "মওকুফ করা হয়েছে" ঘরটা শুধু তখনই আসে যখন ঐ ফি-তে কারো না কারো মওকুফ লেখা আছে, আর "অতিরিক্ত" ঘরটা আসে যদি কেউ ধার্যের চেয়ে বেশি দিয়ে থাকে। যে ক্লাসে এই দুইটার কিছুই নাই, সেখানে ঘর কম — দেখানোর মতো কিছু নাই বলেই। ঘর বেশি মানে ঐ ক্লাসে মওকুফ বা অতিরিক্ত কিছু একটা আছে, এইটুকুই। পুরনো ভার্সনে এখানে "মোট মওকুফ টাকা" আর "আদায় + মওকুফ" নামে দুইটা ঘর আসত; "আদায় + মওকুফ" ঘরটা তুলে দেওয়া হয়েছে, কারণ ওটা দুইটা সংখ্যা জোড়া দিয়ে বানানো ছিল আর পড়তে গিয়ে মানুষ গুলিয়ে ফেলত।

বেতন আদায় করতে নেট লাগবে?

না, নেট ছাড়াই টাকা বসাতে পারবেন — ফোনে সেভ হয়ে থাকবে, নেট এলে নিজে থেকেই চলে যাবে। টিক চিহ্নের জন্য অপেক্ষা করবেন না।

আগে হিসাব তৈরি না করে সোজা টাকা বসানো যায় না?

না। আগে "নতুন বেতন/ভাতা/ফি তৈরি করুন" দিয়ে মাসের হিসাবটা বানাতে হবে, তারপরই ছাত্রদের ঘরে টাকা বসানোর জায়গা আসবে।

ক্লাসে ছাত্র যোগ করা না থাকলে?

আগে ছাত্রদের নাম-রোল তুলে নিতে হবে, নাহলে টাকা বসানোর তালিকাই ফাঁকা থাকবে।

ক্লাসটা আমার, কিন্তু "বেতন/ভাতা/ফি হিসাব" বাটনটাই দেখতে পাচ্ছি না। অ্যাপে সমস্যা?

না, অ্যাপে কোনো সমস্যা নাই এবং কিছু হারায়নি। প্রতিষ্ঠানের এডমিন চাইলে ক্লাস ধরে ধরে ঠিক করে দিতে পারেন কারা বেতন তুলবেন। আপনাকে ঐ তালিকায় না রাখলে ঐ ক্লাসের বাটনটা আপনার কাছে দেখাবে না — হাজিরা, শিক্ষার্থী, রিপোর্ট সব আগের মতোই থাকবে। ছাত্রের প্রোফাইল বা "প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী" তালিকা দিয়ে ঢুকতে গেলেও লেখা আসবে "এই ক্লাসের বেতন কালেকশনের অনুমতি আপনার নাই"। এডমিনকে বলুন: ক্লাসের "এডিট" → "বেতন কালেকশনের অনুমতি" ঘরে গিয়ে আপনার নামে টিক দিয়ে "ঠিক আছে" চাপতে। তারপর অ্যাপ পুরো বন্ধ করে আবার খুললেই বাটনটা ফিরে আসবে।

আমার সহকারী শিক্ষক তো ক্লাসের সব ছাত্রের বকেয়া আর "বেতন/ভাতা/ফি হিসাব" দেখতে পাচ্ছেন। টিউটোরিয়ালে তো লেখা ছিল সাধারণ শিক্ষক হিসাব দেখতে পাবেন না?

ওই লেখাটা **স্টাফদের বেতন** আর **প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়** নিয়ে — ওই দুইটা সাধারণ শিক্ষকের জন্য এখনো পুরা বন্ধ। কিন্তু "বেতন" শব্দটা অ্যাপে দুই জায়গায় আছে বলে গোলমাল লাগে: ক্লাসের ভিতরের **"বেতন/ভাতা/ফি হিসাব"** হলো ছাত্রদের বেতন, আর আয়-ব্যয় ট্যাবের **"বেতন ব্যবস্থাপনা"** হলো স্টাফদের বেতন। নিজের ক্লাসের ছাত্রদের বেতন শ্রেণী শিক্ষক দেখবেন আর টাকা তুলবেন — ওটা বন্ধ করলে তিনি কালেকশনই করতে পারতেন না। তবে ফি-র **পরিমাণ বা নাম বদলানো, নতুন ফি বানানো, ফি মুছে ফেলা** তাঁর কাজ না, ওগুলা শুধু এডমিন/প্রধান শিক্ষকের — ২০২৬ সালের আগস্টের আপডেট থেকে চাপলেই "শুধু এডমিনের জন্য" লেখা আসে। আর তাঁকে ঐ ক্লাসের টাকাও তুলতে দিতে না চাইলে ক্লাসের "এডিট" → "বেতন কালেকশনের অনুমতি" ঘর থেকে বন্ধ করে দিন। কোন পদবী কী কী পায় তার পুরা তালিকা আছে "কর্মকর্তার পদবী ও অনুমতি" পাতায়।

AI-কে জিজ্ঞেস করুন

এই পাতাটা নিয়ে AI অ্যাপকে সহজ বাংলায় বুঝিয়ে দিতে বলুন।

AI অ্যাপ ব্যবহার করা শিখুন

গুগল প্লে থেকে ফ্রি ডাউনলোড করুন

আরও টিউটোরিয়াল