পূর্বের বকেয়া — পুরনো বাকি টাকা তোলা আর প্রতি মাসে যোগ হওয়া
আগস্ট থেকে অ্যাপে বেতন লেখা শুরু করলেন। কিন্তু জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত অনেকের বেতন বাকি পড়ে আছে — ওগুলো কোথায় লিখবেন? আর এই মাসে যে ৫০০ টাকা বাকি থাকল, পরের মাসে সেটা নিজে থেকে যোগ হবে না কেন? দুইটাই এক জিনিসের দুই দিক, আর দুইটারই ব্যবস্থা আছে।
অ্যাপ চালু করার আগের বকেয়া একবারে বসিয়ে দিন, আর প্রতি মাসের বাকি টাকা যেন নিজে থেকেই পরের মাসে চলে আসে।
-
শুরুতে বুঝে নিন কাজটা দুই রকম। এক, অ্যাপ চালু করার আগের পুরনো বকেয়া — সেটা একবার বসাতে হয়। দুই, প্রতি মাসে যা বাকি থেকে যায় — সেটা পরের মাসের হিসাব বানানোর সময় নিজে থেকেই চলে আসতে পারে। দুইটার জায়গা দুইটা, নিচে আলাদা করে দেওয়া আছে।
-
**পুরনো বকেয়া একবারে বসানোঃ** যে মাসের হিসাব থেকে শুরু করতে চান সেটার ভিতরে ঢুকুন (শ্রেণী → দেখুন → "বেতন/ভাতা/ফি হিসাব" → ঐ মাসের নামে চাপ)। "বিস্তারিত" পাতায় নিচের দিকে "শিক্ষার্থীদের আগের বকেয়া যোগ করুন" লেখাটায় চাপ দিন।
-
পুরো ক্লাসের তালিকা এক পাতায় আসবে, প্রত্যেকের নামের পাশে একটা করে ঘর। উপরে "এই বকেয়া কোন সময়ের?" ঘরে একবার লিখে দিন কোন সময়ের বকেয়া — যেমন "জানুয়ারি–জুলাই" বা "অ্যাপ ব্যবহারের আগের"। এই কথাটা পরে টাকার পাশে দেখাবে, তাই অভিভাবক জিজ্ঞেস করলে জবাব দিতে পারবেন।
সময়ের কথাটা না লিখলে সেভ হবে না। ইচ্ছা করেই — ছয় মাস পরে "এই ৪২০০ টাকা কীসের?" জিজ্ছেস করলে টাকার পাশে জবাবটা লেখা থাকা দরকার।
-
এবার যার যত বকেয়া তার ঘরে অঙ্কটা লিখুন। যার কোনো বকেয়া নাই তার ঘর ফাঁকা রেখে দিন (ঘরে হালকা করে লেখা থাকবে "বকেয়া নাই")। শেষে একবার "সেভ করুন" চাপলেই সবার একসাথে হয়ে যাবে — একজন একজন করে করতে হবে না।
-
**প্রতি মাসে নিজে থেকে যোগ হওয়াঃ** পরের মাসের হিসাব বানানোর সময় + চাপলে ফরমের নিচে একটা ঘর আসবে — আগের মাসের নাম ধরে লেখা থাকবে "এর বাকি টাকা এখানে নিয়ে আসুন", আর তার নিচে কতজনের কত টাকা বাকি সেটাও। টিক দেওয়াই থাকে; না চাইলে একবার চাপ দিয়ে তুলে দিন।
অঙ্কটা পড়ে নিন তারপর "যুক্ত করুন" চাপুন। কতজনের কত টাকা আসছে সেটা ওখানেই লেখা থাকে — টাকা চুপচাপ কারো নামে বসে যাক, সেটা যেন না হয়।
-
হয়ে গেলে যাচাই করে নিন। ঐ ফির "টাকা কালেকশন" ট্যাবে গিয়ে কোনো ছাত্রের নামে চাপ দিন — উপরে তিন লাইনে আলাদা করে দেখাবেঃ "জনপ্রতি টাকার পরিমাণ" (এই মাসের বেতন), "পূর্বের বকেয়া" (সাথে কোন সময়ের সেটাও), আর "মোট দিতে হবে"। রশিদেও এই মোট অঙ্কটাই ছাপা হবে।
সাধারণ প্রশ্ন
বকেয়া কি মাসিক বেতনের ঘরে যোগ করে লিখলেই হয় না?
না, ওটাই সবচেয়ে বড় ভুল। বেতনের অঙ্ক বাড়িয়ে লিখলে ঐ মাসের আসল বেতন কত ছিল সেটা আর কোনোদিন জানা যাবে না, আর রশিদেও ভুল অঙ্ক ছাপা হবে। "পূর্বের বকেয়া" আলাদা করে বসে বলেই রশিদে দুইটা লাইন আলাদা দেখা যায় — এই মাসের বেতন কত, আর আগের বাকি কত।
ভুল করে দুইবার চাপ দিলে কি টাকা দুইগুণ হয়ে যাবে?
না। একই মাসের বকেয়া দুইবার আনলে অঙ্কটা আবার একই বসবে, যোগ হবে না। দুইবার চাপ পড়লেও কারো টাকা বেড়ে যাবে না।
যে ছাত্র ক্লাস ছেড়ে চলে গেছে তার বকেয়াও কি চলে আসবে?
না। যারা এখন ক্লাসে আছে শুধু তাদেরটাই আসে। কেউ চলে গেলে তার বকেয়া নতুন মাসে আর ওঠে না।
কাউকে মওকুফ করে দিলে সেটাও কি বকেয়া হয়ে পরের মাসে যাবে?
না। মওকুফ মানে টাকাটা আপনি আর চাচ্ছেন না — সেটা মিটে গেছে ধরা হয়, পরের মাসে যায় না। শুধু যেটা সত্যিই বাকি আছে সেটাই যায়।
বকেয়া বসানোর পর "সম্ভাব্য আয়" বেড়ে গেল কেন?
কারণ ঐ টাকাটাও তো আপনি পাবেন বলেই ধরা আছে। "সম্ভাব্য আয়" মানে এই হিসাব থেকে মোট কত টাকা আসার কথা — এই মাসের বেতন আর পূর্বের বকেয়া দুইটা মিলিয়ে। তাই আদায় আর বাকি যোগ করলে ঠিক সম্ভাব্য আয়ের সমান হবে।
AI-কে জিজ্ঞেস করুন
এই পাতাটা নিয়ে AI অ্যাপকে সহজ বাংলায় বুঝিয়ে দিতে বলুন।
কপি হয়েছে — এখন পেস্ট করুন
গুগল প্লে থেকে ফ্রি ডাউনলোড করুন
আরও টিউটোরিয়াল
- বেতন আদায় করবেন কীভাবে মাসের বেতন একবার তৈরি করুন, তারপর যে টাকা দিল তার ঘরে বসিয়ে দিন। কে কত বাকি, নিজেই হিসাব হয়ে যাবে।
- একেক ছাত্রের বেতন আলাদা হলে কী করবেন কারো বেতন ১০০০, কারো ২০০০, কারো মাফ — প্রত্যেকের অঙ্ক আলাদা বসানো যায়। পুরনো বকেয়াও এভাবেই তোলা হয়।
- মার্কশিট বানাবেন কীভাবে বিষয়ের নম্বরপত্র তৈরি করুন, নম্বর বসান, তারপর পুরো ক্লাসের মার্কশিট প্রিন্ট করে নিন।
- পুরনো ফলাফল বছরের পর বছর রেখে দিন পুরো ক্লাসের ফলাফল এক PDF-এ — প্রতি ছাত্রের আলাদা পাতা। নিজের Google Drive-এ রেখে দিন, ১০ বছর পরেও নাম দিয়ে খুঁজে পাবেন।
- প্রবেশপত্র বানাবেন কীভাবে পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিজেই বানিয়ে প্রিন্ট করে নিন — লোগো, সাক্ষর, তারিখ সবসহ।
- পরিচয়পত্র বানাবেন কীভাবে ছাত্রদের পরিচয়পত্র নিজেই বানিয়ে প্রিন্ট করে নিন — লোগো আর ছবিসহ।
- শিক্ষক ও কর্মচারীর পরিচয়পত্র বানাবেন কীভাবে শিক্ষক, অফিস স্টাফ, দারোয়ান, আয়া — সবার পরিচয়পত্র এক পাতায় প্রিন্ট করুন।
- মেশিন থেকে হাজিরা আনবেন কীভাবে আঙুলের ছাপের মেশিন থেকে ফাইল নামিয়ে সেটা অ্যাপে তুলে দিন — হাজিরা নিজে থেকেই বসে যাবে।