একেক ছাত্রের বেতন আলাদা হলে কী করবেন
কারো বেতন ১০০০, কারো ২০০০, কারো মাফ — প্রত্যেকের অঙ্ক আলাদা বসানো যায়। পুরনো বকেয়াও এভাবেই তোলা হয়।
-
প্রথমে বুঝে নিন দুইটা আলাদা জিনিস। "জন প্রতি টাকার পরিমাণ" হলো ক্লাসের সবার জন্য এক অঙ্ক। আর "আলাদা টাকা" হলো একজন ছাত্রের নিজের অঙ্ক — সেটা বসানো থাকলে ঐ ছাত্র ক্লাসের অঙ্ক নয়, নিজের অঙ্কটাই দেবে।
-
একজনের অঙ্ক বদলাতে চাইলেঃ ফি-টার ভিতরে ঢুকে উপরে "টাকা কালেকশন" ট্যাব → ছাত্রের নামে চাপ → "এই শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা টাকা ঠিক করুন" → অঙ্কটা লিখে "সেভ করুন"।
-
অনেকের অঙ্ক আলাদা হলে একজন একজন করে করা কষ্ট। নতুন আপডেটে ফি-র "বিস্তারিত" পাতায় "সবার আলাদা টাকা একসাথে বসান" নামে একটা লেখা আসছে — চাপ দিলে পুরো ক্লাসের তালিকা এক পাতায় আসবে, প্রত্যেকের নামের পাশে একটা করে ঘর।
এই এক-পাতার তালিকাটা এখনো সবার ফোনে যায়নি, আপডেটে আসছে। ততদিন উপরের ধাপের মতো একজন একজন করে বসাতে হবে — কাজটা একই, শুধু সময় বেশি লাগে।
-
ঐ পাতায় নিয়ম দুইটাঃ ঘর ফাঁকা রাখলে ঐ ছাত্র ক্লাসের অঙ্কটাই দেবে (ঘরে হালকা করে লেখা থাকে "ক্লাসের ৮০০")। আর ঘরে ০ লিখলে ঐ ছাত্রের কাছ থেকে কিছুই চাওয়া হবে না। শেষে একবার "সেভ করুন" চাপলেই সবার একসাথে হয়ে যাবে।
-
অ্যাপ চালু করার আগের পুরনো বকেয়া তুলতে এই ব্যবস্থাটাই ব্যবহার করুন — মাসিক বেতনের অঙ্ক বাড়াবেন না। + চেপে আলাদা একটা হিসাব বানান, নাম দিন "পূর্বের বকেয়া", তারপর যার যত বকেয়া তার ঘরে সেটা বসান।
মাসিক বেতনের ঘরে বকেয়া যোগ করে লিখবেন না। তাহলে ঐ মাসের আসল বেতন কত ছিল সেটা আর জানা যাবে না, আর রশিদেও ভুল অঙ্ক ছাপা হবে।
সাধারণ প্রশ্ন
মওকুফ দিয়ে করলে হয় না?
না, এটাই সবচেয়ে বেশি হওয়া ভুল। "মওকুফ" মানে টাকাটা আপনি চেয়েছিলেন কিন্তু মাফ করে দিয়েছেন — হিসাবে সেটা "মাফ করা টাকা" হিসেবেই বসে, আর প্রতি মাসে আবার লিখতে হয়। "আলাদা টাকা" মানে ঐ ছাত্রের কাছ থেকে ঐ টাকাটা কখনো চাওয়াই হয়নি — একবার বসালেই স্থায়ী। যার বেতনই কম, তার জন্য সবসময় "আলাদা টাকা"। আর দুইটা একসাথে লিখবেন না, তাহলে হিসাব দুইবার কমে যাবে।
পুরনো বকেয়া তোলার সময় যাদের কোনো বকেয়া নাই তাদের কী করব?
তাদের ঘরে ০ লিখে দিন — তাহলে তাদের কাছে এক টাকাও চাওয়া হবে না, আর মোট বাকির হিসাবেও তারা কিছু যোগ করবে না। নতুন আপডেটে আরও সহজ হয়েছেঃ হিসাব বানানোর সময় "জন প্রতি টাকার পরিমাণ" ঘরেই ০ দিতে পারবেন, তখন সবাই শুরুতেই ০ থাকবে আর আপনি শুধু যাদের বকেয়া আছে তাদেরটা বসাবেন — উল্টা দিক থেকে করলে অনেক কম খাটুনি।
আলাদা টাকা বসানোর পর সেপ্টেম্বরের হিসাবেও কি ওটাই থাকবে?
না। "আলাদা টাকা" ঐ একটা হিসাবের জন্যই — আগস্টের বেতনে বসালে সেটা আগস্টের বেতনেই থাকে। প্রত্যেক মাসের হিসাব সম্পূর্ণ আলাদা, আগের মাসের অঙ্ক বা বাকি টাকা নিজে থেকে পরের মাসে যায় না। তাই সেপ্টেম্বরের হিসাব বানানোর পর ঐ ছাত্রের অঙ্কটা আবার বসিয়ে নিতে হবে।
"আলাদা টাকা" অপশনটা আমার ফোনে নাই।
দুইটা কারণ হতে পারে। এক, জায়গা — এটা ফি বানানোর পাতায় নাই; ফি-র ভিতরে "টাকা কালেকশন" ট্যাবে ছাত্রের নামে চেপে যে বাক্সটা ওঠে, তার একদম উপরে। দুই, অনুমতি — প্রাতিষ্ঠানিক ক্লাসে টাকার অঙ্ক শুধু প্রতিষ্ঠানের এডমিন বা প্রধান শিক্ষক ঠিক করতে পারেন, তাই অন্যদের কাছে বোতামটা দেখাই যায় না। নিজের ব্যক্তিগত ক্লাসে সবসময় পারবেন।
AI-কে জিজ্ঞেস করুন
এই পাতাটা নিয়ে AI অ্যাপকে সহজ বাংলায় বুঝিয়ে দিতে বলুন।
কপি হয়েছে — এখন পেস্ট করুন
গুগল প্লে থেকে ফ্রি ডাউনলোড করুন
আরও টিউটোরিয়াল
- বেতন আদায় করবেন কীভাবে মাসের বেতন একবার তৈরি করুন, তারপর যে টাকা দিল তার ঘরে বসিয়ে দিন। কে কত বাকি, নিজেই হিসাব হয়ে যাবে।
- মার্কশিট বানাবেন কীভাবে বিষয়ের নম্বরপত্র তৈরি করুন, নম্বর বসান, তারপর পুরো ক্লাসের মার্কশিট প্রিন্ট করে নিন।
- পুরনো ফলাফল বছরের পর বছর রেখে দিন পুরো ক্লাসের ফলাফল এক PDF-এ — প্রতি ছাত্রের আলাদা পাতা। নিজের Google Drive-এ রেখে দিন, ১০ বছর পরেও নাম দিয়ে খুঁজে পাবেন।
- প্রবেশপত্র বানাবেন কীভাবে পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিজেই বানিয়ে প্রিন্ট করে নিন — লোগো, সাক্ষর, তারিখ সবসহ।
- পরিচয়পত্র বানাবেন কীভাবে ছাত্রদের পরিচয়পত্র নিজেই বানিয়ে প্রিন্ট করে নিন — লোগো আর ছবিসহ।
- শিক্ষক ও কর্মচারীর পরিচয়পত্র বানাবেন কীভাবে শিক্ষক, অফিস স্টাফ, দারোয়ান, আয়া — সবার পরিচয়পত্র এক পাতায় প্রিন্ট করুন।
- মেশিন থেকে হাজিরা আনবেন কীভাবে আঙুলের ছাপের মেশিন থেকে ফাইল নামিয়ে সেটা অ্যাপে তুলে দিন — হাজিরা নিজে থেকেই বসে যাবে।
- আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখবেন কীভাবে প্রতিষ্ঠানের টাকা কোথা থেকে এলো আর কোথায় গেল — সবই এক খাতায়।