এসএমএস কিনতে হয় না — বার্তার খরচ আসলে কার
বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্কুল-মাদরাসা আগে বাল্ক এসএমএস সার্ভিস কিনে অভিভাবককে খবর দিত — প্রতি মেসেজে টাকা, ব্যালেন্স শেষ হলে রিচার্জ। তাই হাজিরা খাতায় "বার্তা পাঠান" দেখে অনেকেই প্রথমেই জিজ্ঞেস করেন, "আলাদা মেসেজ কিনতে হবে নাকি?" উত্তরটা এক লাইনে না, কারণ অ্যাপে বার্তা যাওয়ার পথ আসলে দুইটা আর দুইটার খরচ দুই রকম।
হাজিরা খাতা কোনো এসএমএস প্যাকেজ বিক্রি করে না, অ্যাপ নিজে থেকে একটা এসএমএসও পাঠাতে পারে না। অভিভাবকের কাছে বার্তা যাওয়ার পথ দুইটা — ডিজিটাল ডায়েরি পুরাই বিনামূল্যে, আর এসএমএসে টাকা কাটে আপনার নিজের সিম থেকে। এক ক্লাসে মাসে কত টাকার পার্থক্য, হিসাবসহ এখানে।
-
প্রথম কথাটা পরিষ্কার করে নিই — হাজিরা খাতা কোনো এসএমএস বা মেসেজ বিক্রি করে না। অ্যাপের ভিতরে মেসেজ কেনার কোনো ঘর নাই, প্যাকেজ নাই, ব্যালেন্স নাই, রিচার্জ নাই। কেউ যদি "হাজিরা খাতার মেসেজ প্যাকেজ" বলে আপনার কাছে টাকা চায়, সেটা হাজিরা খাতা না।
-
অভিভাবকের কাছে খবর পৌঁছানোর পথ অ্যাপে দুইটা। এক — ডিজিটাল ডায়েরি, যেটা নেট দিয়ে অ্যাপের ভিতরে যায়। দুই — আপনার নিজের ফোনের মেসেজ অ্যাপ, যেটা আপনার সিম দিয়ে সাধারণ এসএমএস পাঠায়। দুইটা একদম আলাদা জিনিস, আর খরচও আলাদা।
-
পথ ১ — ডিজিটাল ডায়েরি, খরচ শূন্য। ক্লাসে ঢুকে "ডিজিটাল ডায়েরি" চাপুন, তারপর "বার্তা পাঠান"। যা বলতে চান লিখুন, চাইলে ছবি বা পিডিএফ জুড়ে দিন, কে কে পাবেন বেছে নিন, তারপর নিচের "বার্তা পাঠান" চাপুন। এতে এক পয়সাও কাটে না — আজ ১০টা পাঠান বা ১০০০টা, খরচ একই: শূন্য।
ডায়েরির বার্তা এসএমএস হয়ে যায় না। ওটা অভিভাবকের ফোনের হাজিরা খাতা অ্যাপের ভিতরে যায়। তাই দুইটা শর্ত আছে — অভিভাবক আগে ডায়েরিতে যুক্ত হয়ে থাকতে হবে, আর তাঁর ফোনে নেট থাকতে হবে। লেখার ঘরের উপরে সবুজ ঘরে যে সংখ্যাটা লেখা থাকে ("কতজন অভিভাবক এই বার্তা পাবেন"), ওটাই সত্যি কথা বলে। ০ দেখালে বার্তা কারও কাছেই যাবে না।
-
পথ ২ — সাধারণ এসএমএস, টাকা কাটে আপনার সিম থেকে। রসিদ, রেজাল্ট, প্রত্যয়ন পত্র বা মাসের রিপোর্ট পাঠানোর সময় একটা তালিকা আসে — WhatsApp, এসএমএস, imo, অন্য অ্যাপে পাঠান। ওখানে "এসএমএস" লাইনটায় চাপ দিলে আপনার ফোনের নিজের মেসেজ অ্যাপ খুলে যাবে, আর ঐ শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নম্বরটা আগে থেকেই বসানো থাকবে।
-
এখানেই আসল কথাটা — পাঠানোর বোতামটা আপনি নিজে চাপবেন, আপনার ফোনের মেসেজ অ্যাপে। হাজিরা খাতা শুধু অ্যাপটা খুলে নম্বরটা বসিয়ে দেয়, তার বেশি কিছু না। তাই টাকা কাটবে আপনার সিমের ব্যালেন্স থেকে, আপনার অপারেটরের (GP, রবি, বাংলালিংক, টেলিটক) নিজের এসএমএস রেটে — ঠিক যেমন আপনি নিজের হাতে কাউকে মেসেজ দিলে কাটে। হাজিরা খাতা এর থেকে এক টাকাও পায় না।
অ্যাপ নিজে থেকে আপনার হয়ে কোনো এসএমএস পাঠাতে পারে না — চাইলেও না। হাজিরা খাতা ফোনের এসএমএস পাঠানোর পারমিশনই নেয় না। তাই আপনার অজান্তে ব্যালেন্স কেটে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। যা পাঠানো হয়, সব আপনার চোখের সামনে, আপনার হাতের চাপে।
-
ছবি বা পিডিএফ এসএমএসে পাঠালে সেটা আর সাধারণ এসএমএস থাকে না, এমএমএস হয়ে যায় — অপারেটরের রেট আলাদা, আর অনেক সময় অপারেটর আটকেও দেয় (পিডিএফ বেশি আটকায়, ছবি কম)। ছবি বা কাগজ পাঠাতে হোয়াটসঅ্যাপ বা imo-ই সহজ, আর নেট থাকলে ওটা ফ্রি।
-
একসাথে পুরো ক্লাসে এসএমএস পাঠানোর কোনো বোতাম অ্যাপে নাই। এসএমএস যায় একজন একজন করে, প্রতিবার আপনার হাতে। পুরো ক্লাসকে একবারে জানাতে চাইলে ডিজিটাল ডায়েরিই একমাত্র পথ — এবং সেটাই বিনামূল্যে।
-
একবার হিসাবটা করে দেখুন, তাহলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। ৪০ জনের এক ক্লাসে প্রতিদিন একটা করে খবর দিলে মাসে ৪০ × ২৬ = ১০৪০টা এসএমএস। অপারেটরের রেট ধরুন ৫০ পয়সা করে — মাসে প্রায় ৫২০ টাকা, প্রতি মাসে, প্রতি ক্লাসে। ঠিক সেই ১০৪০টা বার্তা ডিজিটাল ডায়েরিতে পাঠালে খরচ ০ টাকা। বছর শেষে এই পার্থক্যটাই কয়েক হাজার টাকা।
তাই খরচ কমানোর আসল কাজটা এসএমএস খোঁজা না — অভিভাবকদের ডায়েরিতে যুক্ত করে ফেলা। একবার যুক্ত হয়ে গেলে ওই অভিভাবক আজীবন ফ্রিতে হাজিরা, ফলাফল, বেতনের খবর আর নোটিশ সব পাবেন। পুরো ক্লাসের অভিভাবককে একসাথে যুক্ত করার নিয়ম এখানে — hazirakhata.xyz/bn/tutorials/connect-all-parents/
-
কোনটা কখন ব্যবহার করবেন, সহজ নিয়ম — অভিভাবক ডায়েরিতে যুক্ত থাকলে ডায়েরি (ফ্রি, ক্লাসভিত্তিক, অ্যাপে জমা থাকে)। যুক্ত না থাকলে বা স্মার্টফোন না থাকলে এসএমএস (আপনার সিমের টাকা, একজন করে)। কাগজ-ছবি পাঠাতে হোয়াটসঅ্যাপ বা imo (ফ্রি, নেট লাগে)। এসএমএসটা ধরে রাখুন শুধু তাঁদের জন্য যাঁদের সত্যিই স্মার্টফোন নাই — বাকি সবাইকে ডায়েরিতে নিয়ে আসুন।
-
যাচাই করে নিন। "এসএমএস" চাপার পর ফোনের মেসেজ অ্যাপে উপরে "To" বা প্রাপকের ঘরে অভিভাবকের নম্বরটা বসে আছে কিনা দেখুন। বসানো থাকলে ঠিক আছে — এখন আপনি নিজে পাঠাবেন। আর ডায়েরির বার্তা ঠিকমতো গেছে কিনা দেখতে ডায়েরির পাতায় "পূর্বের পাঠানো বার্তা" খুলুন, সব ওখানে জমা থাকে।
সাধারণ প্রশ্ন
হাজিরা খাতা থেকে অভিভাবকদের এসএমএস পাঠাতে হলে আলাদা করে মেসেজ কিনতে হয় নাকি?
না, কিনতে হয় না। হাজিরা খাতা এসএমএস বিক্রি করে না, অ্যাপে মেসেজ কেনার কোনো ব্যবস্থাই নাই। ডিজিটাল ডায়েরির বার্তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আর "এসএমএস" বোতামটা আপনার নিজের ফোনের মেসেজ অ্যাপ খুলে দেয় — ওই এসএমএসের টাকা আপনার সিম থেকে আপনার অপারেটর কাটে, হাজিরা খাতা না।
তাহলে ডিজিটাল ডায়েরিতে যে বার্তা পাঠাই, সেটা কি অভিভাবকের ফোনে এসএমএস হয়ে যাবে?
না। ডায়েরির বার্তা অভিভাবকের হাজিরা খাতা অ্যাপের ভিতরে যায়, নোটিফিকেশন আসে। যাঁর ফোনে অ্যাপ নাই বা যিনি ডায়েরিতে যুক্ত হননি, তিনি ওটা পাবেন না — এসএমএস হয়েও যাবে না। তাই আগে অভিভাবককে যুক্ত করে নেওয়াটাই আসল কাজ — hazirakhata.xyz/bn/tutorials/connect-all-parents/
অভিভাবকের স্মার্টফোন নাই, বাটন ফোন। তাঁকে খবর দিব কীভাবে?
তাঁর জন্য এসএমএসই একমাত্র পথ — শিক্ষার্থীর প্রোফাইলে নম্বরে চাপ দিয়ে "এসএমএস" বেছে নিন, ফোনের মেসেজ অ্যাপে লিখে পাঠিয়ে দিন। খরচ আপনার সিম থেকে যাবে। যাঁদের বাটন ফোন তাঁদের তালিকাটা ছোট রাখলে খরচও কম থাকে — বাকি সবাইকে ডায়েরিতে যুক্ত করে ফেলুন।
উপস্থিতি নেওয়ার পর অনুপস্থিতদের অটোম্যাটিক এসএমএস চলে যায় নাকি?
না, যায় না। পুরানো ভার্সনে ওরকম একটা ব্যবস্থা ছিল, অনেক আগেই বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন হাজিরা সেভ করার পর যে বাক্সটা আসে, তাতে "বার্তা লিখুন" চাপলে ডিজিটাল ডায়েরির বার্তা তৈরি হয় — সবাইকে, নাকি শুধু অনুপস্থিতদের, সেটা আপনি বেছে নেন। ওটা ফ্রি, আর আপনি না চাপলে কিছুই যায় না।
এসএমএস দিয়ে পাঠালে সেটা কি অ্যাপে জমা থাকবে?
না। ফোনের মেসেজ অ্যাপ দিয়ে পাঠানো এসএমএস ফোনেই থাকে, অ্যাপে জমা হয় না। যা যা ডিজিটাল ডায়েরিতে পাঠান, সেগুলাই "পূর্বের পাঠানো বার্তা" তালিকায় জমা থাকে — কবে পাঠিয়েছেন, কোন ধরনের বার্তা, সব। হিসাব রাখতে চাইলে ডায়েরিই ভালো।
ভবিষ্যতে কি অ্যাপ থেকেই সরাসরি এসএমএস পাঠানোর ব্যবস্থা আসবে?
এখন নাই, আর কবে আসবে সেই কথা দিয়ে রাখছি না। বাল্ক এসএমএস মানে প্রতি মেসেজে প্রতিষ্ঠানের টাকা খরচ, তাই ওটা যোগ করলে সেটার দামও প্রতিষ্ঠানকেই দিতে হবে — ডায়েরির মতো ফ্রি হবে না। আপনার প্রতিষ্ঠানে এটা সত্যিই দরকার মনে হলে হেল্প ডেস্কে জানিয়ে রাখুন, কতজন চাচ্ছেন সেটা দেখেই সিদ্ধান্ত হবে।
হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালে কি টাকা লাগে?
না, হোয়াটসঅ্যাপ বা imo-তে পাঠাতে মেসেজের টাকা লাগে না — শুধু নেট খরচ হয়, যেটা এমনিতেও চলে। এসএমএসের মতো প্রতি মেসেজে কাটে না। তাই ছবি, রসিদ বা রেজাল্ট পাঠানোর জন্য হোয়াটসঅ্যাপই সবচেয়ে সস্তা পথ।
AI-কে জিজ্ঞেস করুন
এই পাতাটা নিয়ে AI অ্যাপকে সহজ বাংলায় বুঝিয়ে দিতে বলুন।
কপি হয়েছে — এখন পেস্ট করুন
গুগল প্লে থেকে ফ্রি ডাউনলোড করুন
আরও টিউটোরিয়াল
- আমার সন্তান দেখবেন কীভাবে অ্যাকাউন্ট ছাড়াই সন্তানের হিসাব রাখুন — টিকার তারিখ, স্মৃতি, নিজের রাখা হাজিরা।
- অভিভাবক নিজে থেকে যুক্ত হতে চাইলে কী করবেন অভিভাবক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে সন্তানের নাম লিখে অনুরোধ পাঠান। সেই অনুরোধ প্রতিষ্ঠানের ট্যাবে জমা হয়। আপনি শুধু দেখিয়ে দেবেন এটা কোন শিক্ষার্থী — বাকিটা অভিভাবক নিজেই করবেন।
- সব অভিভাবককে একসাথে যুক্ত করুন এক এক করে লিংক পাঠাতে গেলে ৪০ জন অভিভাবকে সারা দিন লেগে যাবে। এক চাপে পুরো ক্লাসের অভিভাবকের কাছে রিকোয়েস্ট পাঠান, আর যিনি সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁকে কিউআর কোড দেখিয়ে সাথে সাথে যুক্ত করুন।
- ডায়েরি দিয়ে অভিভাবককে যুক্ত করুন শিক্ষক একটা লিংক বা QR পাঠাবেন, অভিভাবক সেটাতে চাপ দিলেই যুক্ত হয়ে যাবেন — ক্লাসের বার্তা তাঁর ফোনে পৌঁছাবে।
- অভিভাবককে বার্তা পাঠাবেন কীভাবে নোটিশ, বাড়ির কাজ, বেতনের কথা বা পরীক্ষার খবর — সরাসরি অভিভাবকের ফোনে, বিনামূল্যে। ছবি বা পিডিএফও পাঠানো যায়। কে বার্তাটা পাবেন আর কে পাবেন না, পাঠানোর আগেই অ্যাপ বলে দেয়।
- কোন অভিভাবক যুক্ত হয়েছেন, দেখবেন কীভাবে রিকোয়েস্ট পাঠানোর পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — কাজ হলো কি? ডায়েরির নিচের তালিকাটাই উত্তর দেয়। কার নামের পাশে "যুক্ত" লেখা, কাকে ফোন দেবেন, আর লাল ✕ চাপলে কী হয় — সবই এখানে।
- পরীক্ষার রুটিন অভিভাবকদের পাঠাবেন কীভাবে রুটিনটা আপনি একবার অ্যাপে লিখে রেখেছেন। এখন এক চাপে সেটাই অভিভাবকের ফোনে চলে যাবে — নতুন করে টাইপ করতে হবে না, ছবি তুলতে হবে না।
- অভিভাবক শিক্ষককে কীভাবে যোগাযোগ করবেন ডিজিটাল ডায়েরিতে শিক্ষকের বার্তার নিচেই শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের বোতাম আছে। ডায়েরিতে উত্তর লেখার ঘর নাই — কেন নাই আর কী করবেন, দুইটাই এখানে।