এসএমএস কিনতে হয় না — বার্তার খরচ আসলে কার
বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্কুল-মাদরাসা আগে বাল্ক এসএমএস সার্ভিস কিনে অভিভাবককে খবর দিত — প্রতি মেসেজে টাকা, ব্যালেন্স শেষ হলে রিচার্জ। তাই হাজিরা খাতায় "বার্তা পাঠান" দেখে অনেকেই প্রথমেই জিজ্ঞেস করেন, "আলাদা মেসেজ কিনতে হবে নাকি?" উত্তরটা এক লাইনে না, কারণ অ্যাপে বার্তা যাওয়ার পথ আসলে দুইটা আর দুইটার খরচ দুই রকম।
হাজিরা খাতা কোনো এসএমএস প্যাকেজ বিক্রি করে না, অ্যাপ নিজে থেকে একটা এসএমএসও পাঠাতে পারে না। অভিভাবকের কাছে বার্তা যাওয়ার পথ দুইটা — ডিজিটাল ডায়েরি পুরাই বিনামূল্যে, আর এসএমএসে টাকা কাটে আপনার নিজের সিম থেকে। এক ক্লাসে মাসে কত টাকার পার্থক্য, হিসাবসহ এখানে।
-
প্রথম কথাটা পরিষ্কার করে নিই — হাজিরা খাতা কোনো এসএমএস বা মেসেজ বিক্রি করে না। অ্যাপের ভিতরে মেসেজ কেনার কোনো ঘর নাই, প্যাকেজ নাই, ব্যালেন্স নাই, রিচার্জ নাই। কেউ যদি "হাজিরা খাতার মেসেজ প্যাকেজ" বলে আপনার কাছে টাকা চায়, সেটা হাজিরা খাতা না।
-
অভিভাবকের কাছে খবর পৌঁছানোর পথ অ্যাপে দুইটা। এক — ডিজিটাল ডায়েরি, যেটা নেট দিয়ে অ্যাপের ভিতরে যায়। দুই — আপনার নিজের ফোনের মেসেজ অ্যাপ, যেটা আপনার সিম দিয়ে সাধারণ এসএমএস পাঠায়। দুইটা একদম আলাদা জিনিস, আর খরচও আলাদা।
-
পথ ১ — ডিজিটাল ডায়েরি, খরচ শূন্য। ক্লাসে ঢুকে "ডিজিটাল ডায়েরি" চাপুন, তারপর "বার্তা পাঠান"। যা বলতে চান লিখুন, চাইলে ছবি বা পিডিএফ জুড়ে দিন, কে কে পাবেন বেছে নিন, তারপর নিচের "বার্তা পাঠান" চাপুন। এতে এক পয়সাও কাটে না — আজ ১০টা পাঠান বা ১০০০টা, খরচ একই: শূন্য।
ডায়েরির বার্তা এসএমএস হয়ে যায় না। ওটা অভিভাবকের ফোনের হাজিরা খাতা অ্যাপের ভিতরে যায়। তাই দুইটা শর্ত আছে — অভিভাবক আগে ডায়েরিতে যুক্ত হয়ে থাকতে হবে, আর তাঁর ফোনে নেট থাকতে হবে। লেখার ঘরের উপরে সবুজ ঘরে যে সংখ্যাটা লেখা থাকে ("কতজন অভিভাবক এই বার্তা পাবেন"), ওটাই সত্যি কথা বলে। ০ দেখালে বার্তা কারও কাছেই যাবে না।
-
পথ ২ — সাধারণ এসএমএস, টাকা কাটে আপনার সিম থেকে। রসিদ, রেজাল্ট, প্রত্যয়ন পত্র বা মাসের রিপোর্ট পাঠানোর সময় একটা তালিকা আসে — WhatsApp, এসএমএস, imo, অন্য অ্যাপে পাঠান। ওখানে "এসএমএস" লাইনটায় চাপ দিলে আপনার ফোনের নিজের মেসেজ অ্যাপ খুলে যাবে, আর ঐ শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নম্বরটা আগে থেকেই বসানো থাকবে।
-
এখানেই আসল কথাটা — পাঠানোর বোতামটা আপনি নিজে চাপবেন, আপনার ফোনের মেসেজ অ্যাপে। হাজিরা খাতা শুধু অ্যাপটা খুলে নম্বরটা বসিয়ে দেয়, তার বেশি কিছু না। তাই টাকা কাটবে আপনার সিমের ব্যালেন্স থেকে, আপনার অপারেটরের (GP, রবি, বাংলালিংক, টেলিটক) নিজের এসএমএস রেটে — ঠিক যেমন আপনি নিজের হাতে কাউকে মেসেজ দিলে কাটে। হাজিরা খাতা এর থেকে এক টাকাও পায় না।
অ্যাপ নিজে থেকে আপনার হয়ে কোনো এসএমএস পাঠাতে পারে না — চাইলেও না। হাজিরা খাতা ফোনের এসএমএস পাঠানোর পারমিশনই নেয় না। তাই আপনার অজান্তে ব্যালেন্স কেটে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। যা পাঠানো হয়, সব আপনার চোখের সামনে, আপনার হাতের চাপে।
-
ছবি বা পিডিএফ এসএমএসে পাঠালে সেটা আর সাধারণ এসএমএস থাকে না, এমএমএস হয়ে যায় — অপারেটরের রেট আলাদা, আর অনেক সময় অপারেটর আটকেও দেয় (পিডিএফ বেশি আটকায়, ছবি কম)। ছবি বা কাগজ পাঠাতে হোয়াটসঅ্যাপ বা imo-ই সহজ, আর নেট থাকলে ওটা ফ্রি।
-
নতুন ভার্সনে পুরো ক্লাসে একসাথে এসএমএস পাঠানোও যায়। ডিজিটাল ডায়েরিতে বার্তা লিখে "বার্তা পাঠান" চাপলে নিচে একটা বাক্স উঠবে — "SMS-ও পাঠাবেন?"। ক্লাসের কেউ ডায়েরিতে যুক্ত না থাকলে ওখানে লেখা থাকবে "SMS দিয়ে পাঠান"। এরপর বেছে নিতে পারবেন — শুধু যাঁদের কাছে ডায়েরির বার্তা পৌঁছায়নি তাঁদের, নাকি নম্বর সেভ করা আছে এমন সবাইকে।
এটাও কিন্তু আপনার নিজের সিম থেকেই যায়, ফোনের মেসেজ অ্যাপ দিয়েই — অ্যাপ নিজে একটাও এসএমএস পাঠায় না। নম্বর বেশি হলে ৩০টা করে ভাগ হয়ে যাবে, প্রতি ভাগে আপনাকে একবার করে পাঠান চাপতে হবে। আর পাঠানোর আগেই স্ক্রিনে দেখাবে মোট কয়টা এসএমএস লাগছে — বাংলায় লিখলে সংখ্যাটা অনেক বেশি হয়, নিচের হিসাবটা দেখুন। 🙏
-
একবার হিসাবটা করে দেখুন, তাহলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। ৪০ জনের এক ক্লাসে প্রতিদিন একটা করে খবর দিলে মাসে ৪০ × ২৬ = ১০৪০টা বার্তা। কিন্তু এখানেই আসল ধাক্কাটা — **একটা বার্তা মানে একটা এসএমএস না**। ইংরেজিতে ১৬০ অক্ষর পর্যন্ত একটা এসএমএস, কিন্তু বাংলায় মাত্র ৭০। একটা লাইনও বাংলা থাকলেই পুরা বার্তাটা বাংলার হিসাবে যায়। "আপনার সন্তান আজ অনুপস্থিত ছিল" + প্রতিষ্ঠানের নাম + লিংক — এইটুকুতেই সাধারণত ২টা, একটু বড় হলে ৩টা এসএমএস। তাই ঐ ১০৪০টা বার্তা আসলে ২০০০–৩০০০টা এসএমএস। ৫০ পয়সা করে ধরলে মাসে ১০০০–১৫০০ টাকা, প্রতি মাসে, শুধু এক ক্লাসে। ঠিক ঐ বার্তাগুলাই ডিজিটাল ডায়েরিতে পাঠালে খরচ ০ টাকা। এই কারণেই পাঠানোর আগে স্ক্রিনে যে সংখ্যাটা দেখায় সেটা একবার পড়ে নিবেন — ওটা অনুমান না, আপনার লেখা বার্তাটা গুনেই বলা। লেখা ছোট করলে সংখ্যাটা কমে যায়, ওখানেই দেখতে পাবেন।
তাই খরচ কমানোর আসল কাজটা এসএমএস খোঁজা না — অভিভাবকদের ডায়েরিতে যুক্ত করে ফেলা। একবার যুক্ত হয়ে গেলে ওই অভিভাবক আজীবন ফ্রিতে হাজিরা, ফলাফল, বেতনের খবর আর নোটিশ সব পাবেন। পুরো ক্লাসের অভিভাবককে একসাথে যুক্ত করার নিয়ম এখানে — hazirakhata.xyz/bn/tutorials/connect-all-parents/
-
কোনটা কখন ব্যবহার করবেন, সহজ নিয়ম — অভিভাবক ডায়েরিতে যুক্ত থাকলে ডায়েরি (ফ্রি, ক্লাসভিত্তিক, অ্যাপে জমা থাকে)। যুক্ত না থাকলে বা স্মার্টফোন না থাকলে এসএমএস (আপনার সিমের টাকা, একজন করে)। কাগজ-ছবি পাঠাতে হোয়াটসঅ্যাপ বা imo (ফ্রি, নেট লাগে)। এসএমএসটা ধরে রাখুন শুধু তাঁদের জন্য যাঁদের সত্যিই স্মার্টফোন নাই — বাকি সবাইকে ডায়েরিতে নিয়ে আসুন।
-
যাচাই করে নিন। "এসএমএস" চাপার পর ফোনের মেসেজ অ্যাপে উপরে "To" বা প্রাপকের ঘরে অভিভাবকের নম্বরটা বসে আছে কিনা দেখুন। বসানো থাকলে ঠিক আছে — এখন আপনি নিজে পাঠাবেন। আর ডায়েরির বার্তা ঠিকমতো গেছে কিনা দেখতে ডায়েরির পাতায় "পূর্বের পাঠানো বার্তা" খুলুন, সব ওখানে জমা থাকে।
সাধারণ প্রশ্ন
হাজিরা খাতা থেকে অভিভাবকদের এসএমএস পাঠাতে হলে আলাদা করে মেসেজ কিনতে হয় নাকি?
না, কিনতে হয় না। হাজিরা খাতা এসএমএস বিক্রি করে না, অ্যাপে মেসেজ কেনার কোনো ব্যবস্থাই নাই। ডিজিটাল ডায়েরির বার্তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আর "এসএমএস" বোতামটা আপনার নিজের ফোনের মেসেজ অ্যাপ খুলে দেয় — ওই এসএমএসের টাকা আপনার সিম থেকে আপনার অপারেটর কাটে, হাজিরা খাতা না।
তাহলে ডিজিটাল ডায়েরিতে যে বার্তা পাঠাই, সেটা কি অভিভাবকের ফোনে এসএমএস হয়ে যাবে?
না। ডায়েরির বার্তা অভিভাবকের হাজিরা খাতা অ্যাপের ভিতরে যায়, নোটিফিকেশন আসে। যাঁর ফোনে অ্যাপ নাই বা যিনি ডায়েরিতে যুক্ত হননি, তিনি ওটা পাবেন না — এসএমএস হয়েও যাবে না। তাই আগে অভিভাবককে যুক্ত করে নেওয়াটাই আসল কাজ — hazirakhata.xyz/bn/tutorials/connect-all-parents/
অভিভাবকের স্মার্টফোন নাই, বাটন ফোন। তাঁকে খবর দিব কীভাবে?
তাঁর জন্য এসএমএসই একমাত্র পথ — শিক্ষার্থীর প্রোফাইলে নম্বরে চাপ দিয়ে "এসএমএস" বেছে নিন, ফোনের মেসেজ অ্যাপে লিখে পাঠিয়ে দিন। খরচ আপনার সিম থেকে যাবে। যাঁদের বাটন ফোন তাঁদের তালিকাটা ছোট রাখলে খরচও কম থাকে — বাকি সবাইকে ডায়েরিতে যুক্ত করে ফেলুন।
অভিভাবকদের অ্যাপে যুক্ত না করেই সব অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর অভিভাবককে এক ক্লিকে এসএমএস দিব কীভাবে?
হয়। অভিভাবকের অ্যাপে থাকা লাগবে না — শুধু শিক্ষার্থীর প্রোফাইলে অভিভাবকের নম্বরটা সেভ করা থাকলেই হবে। ক্লাসে ঢুকে হাজিরা নিন, সেভ করুন। "হাজিরা সেভ হয়েছে" বাক্সে "শুধু অনুপস্থিতদের" বেছে নিন, তারপর "বার্তা লিখুন"। লেখাটা আগে থেকেই বসানো থাকবে — "আপনার সন্তান আজ ক্লাসে অনুপস্থিত ছিল।" — চাইলে বদলে নিন। এবার "বার্তা পাঠান" চাপলে "SMS-ও পাঠাবেন?" বাক্সটা উঠবে; কতজন পাবেন আর মোট কয়টা এসএমএস লাগবে, দুইটাই ওখানে লেখা থাকবে। শেষে "SMS অ্যাপ খুলুন" চাপলে আপনার ফোনের নিজের মেসেজ অ্যাপ খুলে যাবে, সব নম্বর আগে থেকেই বসানো — আপনি শুধু পাঠান চাপবেন। টাকা কাটবে আপনার সিম থেকে, অ্যাপ কিছু নেয় না। নম্বর ৩০টার বেশি হলে ভাগে যাবে, প্রতি ভাগে একবার করে চাপতে হবে। একটা কথা — এটা নতুন ভার্সনের ব্যবস্থা। আপনার ফোনে "SMS-ও পাঠাবেন?" বাক্সটা না আসলে বুঝবেন অ্যাপটা এখনো পুরানো ভার্সনে আছে, প্লে স্টোর থেকে আপডেট করে নিন।
উপস্থিতি নেওয়ার পর অনুপস্থিতদের অটোম্যাটিক এসএমএস চলে যায় নাকি?
অটোম্যাটিক কিছু যায় না — আপনি না চাপলে একটা বার্তাও যাবে না। পুরানো ভার্সনে অটোম্যাটিক পাঠানোর ব্যবস্থা ছিল, অনেক আগেই বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন হাজিরা সেভ করার পর যে বাক্সটা আসে, তাতে আগে বেছে নিন — সবাইকে, নাকি শুধু অনুপস্থিতদের। তারপর "বার্তা লিখুন" চাপলে ডিজিটাল ডায়েরির বার্তা তৈরি হয়, ওটা ফ্রি। নতুন ভার্সনে এরপর আরেকটা বাক্স আসে — "SMS-ও পাঠাবেন?" — যাঁরা ডায়েরিতে যুক্ত নন তাঁদের কাছে নিজের সিম থেকে এসএমএস পাঠানোর জন্য। পুরা নিয়ম উপরের প্রশ্নটায় আছে।
এসএমএস দিয়ে পাঠালে সেটা কি অ্যাপে জমা থাকবে?
না। ফোনের মেসেজ অ্যাপ দিয়ে পাঠানো এসএমএস ফোনেই থাকে, অ্যাপে জমা হয় না। যা যা ডিজিটাল ডায়েরিতে পাঠান, সেগুলাই "পূর্বের পাঠানো বার্তা" তালিকায় জমা থাকে — কবে পাঠিয়েছেন, কোন ধরনের বার্তা, সব। হিসাব রাখতে চাইলে ডায়েরিই ভালো।
বকেয়া বেতনের এসএমএসে প্রত্যেকের নিজের টাকার অঙ্ক যায় কি? আর একসাথে সবাইকে পাঠানো যায় না কেন?
যায়। বেতন → টাকা কালেকশন → "এদের বার্তা পাঠান" চাপলে প্রত্যেক অভিভাবকের বার্তায় তাঁর নিজের সন্তানের নাম, রোল আর নিজের বকেয়ার অঙ্কটাই বসে — একজনের ৩০০০, আরেকজনের ৭৫০০। ঐ ঘরে আপনার কিছু লেখাও লাগে না, অ্যাপ নিজেই বসিয়ে দেয়। কিন্তু ঠিক এই কারণেই একসাথে সবাইকে এক চাপে পাঠানো যায় না: একটা এসএমএসের ভিতরে লেখা যায় মাত্র একটাই, আর এখানে প্রত্যেকের লেখা আলাদা। তাই একজন করে পাঠাতে হয় — ৭ জন বকেয়া থাকলে ৭ বার "পাঠান" চাপতে হবে। স্ক্রিনে "৭ জনের মধ্যে ২ নম্বর জন" লেখা থাকবে, তাই কোথায় আছেন বুঝতে পারবেন। এক চাপে সবার কাছে পাঠাতে চাইলে অভিভাবকদের ডিজিটাল ডায়েরিতে যুক্ত করে নিন — ওখানে এক চাপেই সবার কাছে যায়, প্রত্যেকের নিজের অঙ্কসহ, আর একদম ফ্রি। একটা কথা মনে রাখবেন — এসএমএসে প্রত্যেকের নিজের অঙ্ক যাওয়ার ব্যবস্থাটা নতুন ভার্সনের। পুরানো ভার্সনে সবার কাছে এক লেখাই যেত আর অঙ্কটা বাদ পড়ত, তাই বকেয়ার বার্তা পাঠানোর আগে অ্যাপটা আপডেট করে নিবেন।
এক ক্লিকে সব অভিভাবকের কাছে এসএমএস পাঠানো যায় নাকি?
নতুন ভার্সনে যায়। ডায়েরিতে বার্তা লিখে "বার্তা পাঠান" চাপলে "SMS-ও পাঠাবেন?" বাক্সটা আসবে, ওখান থেকে পুরো ক্লাস বেছে নিতে পারবেন। তবে দুইটা কথা মনে রাখবেন — এসএমএসগুলা যাবে আপনার নিজের সিম থেকে, ফোনের মেসেজ অ্যাপ দিয়ে, আর নম্বর বেশি হলে ৩০টা করে ভাগে যাবে। অ্যাপ নিজে থেকে একটাও এসএমএস পাঠায় না, তাই আপনার অজান্তে ব্যালেন্স কাটার সুযোগ নাই। বাক্সটা না দেখলে বুঝবেন আপনার অ্যাপ পুরানো — প্লে স্টোরে আপডেট দিয়ে নিন।
হাজিরা খাতা কি নিজে থেকে এসএমএস পাঠিয়ে দেবে, বাল্ক এসএমএস প্যাকেজের মতো?
না, ওরকম হবে না। বাল্ক এসএমএস সার্ভিসে প্রতি মেসেজে প্রতিষ্ঠানের টাকা যায়, তাই ওটা যোগ করলে দামও প্রতিষ্ঠানকেই দিতে হতো। তার বদলে অ্যাপ আপনার ফোনের মেসেজ অ্যাপে নম্বরগুলা বসিয়ে দেয়, পাঠানোর বোতামটা আপনি নিজে চাপেন — খরচ আপনার সিমের স্বাভাবিক রেটেই থাকে, অ্যাপ এক টাকাও নেয় না। আগের ভার্সনে (২০২৩ সালের আগে) অ্যাপ নিজেই পাঠাত, কিন্তু ওই পারমিশন গুগল এখন শুধু মেসেজ অ্যাপগুলাকেই দেয়, তাই ওভাবে আর ফেরানো যায় না।
আমার লেখা বার্তার শেষে একটা লিংক নিজে থেকে বসে যাচ্ছে — এটা কী, আর এর জন্য কি টাকা বাড়ে?
হ্যাঁ, বসে — আর এটা লুকানোর কিছু না, তাই খোলাখুলি বলি। প্রত্যেক এসএমএসের শেষে অ্যাপের ঠিকানা (hazirakhata.xyz) যোগ হয়, আর আপনার প্রতিষ্ঠানের নিজের ওয়েবসাইট থাকলে সেটাও। কারণটা সোজা — যে অভিভাবক ডায়েরিতে যুক্ত নাই, তিনিই তো এসএমএসটা পাচ্ছেন; ভিতরে ঢোকার রাস্তাটা ঐ বার্তাতেই থাকা লাগে, নইলে তিনি চিরকাল এসএমএসেই থেকে যাবেন আর আপনার টাকা যেতেই থাকবে। খরচের কথা যদি বলেন — হ্যাঁ, লিংক দুইটা মিলে আনুমানিক ২৫-৩০ অক্ষর, বাংলা বার্তায় ওটা প্রায় আধা এসএমএসের সমান। তবে এটা আড়ালে যায় না: পাঠানোর আগে স্ক্রিনে যে "কয়টা এসএমএস" দেখায়, তাতে লিংকসহ পুরা লেখাটাই গোনা থাকে। যা দেখছেন, সেটাই যাবে।
হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালে কি টাকা লাগে?
না, হোয়াটসঅ্যাপ বা imo-তে পাঠাতে মেসেজের টাকা লাগে না — শুধু নেট খরচ হয়, যেটা এমনিতেও চলে। এসএমএসের মতো প্রতি মেসেজে কাটে না। তাই ছবি, রসিদ বা রেজাল্ট পাঠানোর জন্য হোয়াটসঅ্যাপই সবচেয়ে সস্তা পথ।
AI-কে জিজ্ঞেস করুন
এই পাতাটা নিয়ে AI অ্যাপকে সহজ বাংলায় বুঝিয়ে দিতে বলুন।
কপি হয়েছে — এখন পেস্ট করুন
গুগল প্লে থেকে ফ্রি ডাউনলোড করুন
আরও টিউটোরিয়াল
- আমার সন্তান দেখবেন কীভাবে অ্যাকাউন্ট ছাড়াই সন্তানের হিসাব রাখুন — টিকার তারিখ, স্মৃতি, নিজের রাখা হাজিরা।
- অভিভাবক নিজে থেকে যুক্ত হতে চাইলে কী করবেন অভিভাবক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে সন্তানের নাম লিখে অনুরোধ পাঠান। সেই অনুরোধ প্রতিষ্ঠানের ট্যাবে জমা হয়। আপনি শুধু দেখিয়ে দেবেন এটা কোন শিক্ষার্থী — বাকিটা অভিভাবক নিজেই করবেন।
- সব অভিভাবককে একসাথে যুক্ত করুন এক এক করে লিংক পাঠাতে গেলে ৪০ জন অভিভাবকে সারা দিন লেগে যাবে। এক চাপে পুরো ক্লাসের অভিভাবকের কাছে রিকোয়েস্ট পাঠান, আর যিনি সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁকে কিউআর কোড দেখিয়ে সাথে সাথে যুক্ত করুন।
- ডায়েরি দিয়ে অভিভাবককে যুক্ত করুন শিক্ষক একটা লিংক বা QR পাঠাবেন, অভিভাবক সেটাতে চাপ দিলেই যুক্ত হয়ে যাবেন — ক্লাসের বার্তা তাঁর ফোনে পৌঁছাবে।
- অভিভাবককে বার্তা পাঠাবেন কীভাবে নোটিশ, বাড়ির কাজ, বেতনের কথা বা পরীক্ষার খবর — সরাসরি অভিভাবকের ফোনে, বিনামূল্যে। ছবি বা পিডিএফও পাঠানো যায়। কে বার্তাটা পাবেন আর কে পাবেন না, পাঠানোর আগেই অ্যাপ বলে দেয়।
- কোন অভিভাবক যুক্ত হয়েছেন, দেখবেন কীভাবে রিকোয়েস্ট পাঠানোর পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — কাজ হলো কি? ডায়েরির নিচের তালিকাটাই উত্তর দেয়। কার নামের পাশে "যুক্ত" লেখা, কাকে ফোন দেবেন, আর লাল ✕ চাপলে কী হয় — সবই এখানে।
- পরীক্ষার রুটিন অভিভাবকদের পাঠাবেন কীভাবে রুটিনটা আপনি একবার অ্যাপে লিখে রেখেছেন। এখন এক চাপে সেটাই অভিভাবকের ফোনে চলে যাবে — নতুন করে টাইপ করতে হবে না, ছবি তুলতে হবে না।
- অভিভাবক শিক্ষককে কীভাবে যোগাযোগ করবেন ডিজিটাল ডায়েরিতে শিক্ষকের বার্তার নিচেই শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের বোতাম আছে। ডায়েরিতে উত্তর লেখার ঘর নাই — কেন নাই আর কী করবেন, দুইটাই এখানে।